শিরোনাম
◈ বাংলাদেশকে স্বনির্ভর ও শিল্পোন্নত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: মির্জা ফখরুল ◈ বাজেটে ঘাটতি অর্থায়নের নতুন কৌশল: ব্যাংক নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিতে গতি আনার উদ্যোগ ◈ ক্রিকেটার নাঈমের শারী‌রিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে চট্টগ্রামে গে‌লেন বিসিবির ফিজিওরা ◈ ব্রাজিলের এক‌টি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ মরক্কোর বিপক্ষে জয় চান না ◈ ইংল্যান্ড দ‌লের বল ও বুটসহ অ‌নেক অনুশীলন সরঞ্জাম চুরি ◈ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে একটি করে গাছ লাগান: প্রধানমন্ত্রী ◈ বিপ্লবের পর বাস্তবতার মুখে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা ◈ জুলাইয়ে সমাহিত হবেন খামেনি, ঘোষণা ইরানের ◈ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধে ইরানের সঙ্গে গোপন সমঝোতা আমিরাতের? ১০-২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের তথ্য প্রকাশ করল রয়টার্স ◈ ‘দেশের মালিক ২০ কোটি মানুষ, কোনো দল বা পরিবার নয়, জনগণের সমর্থন নিয়েই দেশের ভাগ্য বদলাবে বিএনপি’

প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর, ২০২৫, ০৯:৩২ রাত
আপডেট : ২৮ মে, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঢেঁকি ছাঁটা লাল চাল খেয়ে রোগীরা সুস্থতা ফিরে পাচ্ছেন

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কুন্দুরিয়া গ্রামের আকতার হোসেন ঢেঁকি ছাঁটা লাল চাল ভেঙে মাসে আয় করছেন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। তার উদ্যোগে তিনজনের কর্মসংস্থান হয়েছে। বর্তমানে দূর-দূরান্ত থেকে তার লাল চালের চাহিদা থাকায় দেশের ৪০টি জেলায় বিক্রি হচ্ছে তার ভাঙানো আমন ও আউশ জাতের চাল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘিওরের কুন্দুরিয়ার অবাক মার্কেটে সারাক্ষণ হুটহাট শব্দে ঢেঁকি ছাঁটা লাল চাল ভাঙানো হচ্ছে। কাঠের ঢেঁকির সঙ্গে বৈদ্যুতিক মোটর ও সার্কিট ব্রেকার যুক্ত করে আকতার হোসেন নিজেই উদ্ভাবন করেছেন এই ইলেকট্রনিক ঢেঁকি। এতে ধান চূর্ণ করে প্রাকৃতিক উপায়ে লাল চাল উৎপাদন করা হয়।

এখানে মনোয়ারা ও জাহানারা নামের দুই নারী সারাক্ষণ কাজ করেন। পাশে ধান সংরক্ষণের স্থান ও চাল প্যাকেজ করার ব্যবস্থা রয়েছে। এখান থেকেই জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে চাল। প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত আমন ধানের ‘ভাওয়াইলা’, ‘দীঘা’, ‘ডাপো’ ও আউশ ধানের ‘কালো মানিক’ জাতের চাল উৎপাদন করেন তিনি। স্বাস্থ্যসম্মত ও উপকারী হওয়ায় এলাকাজুড়ে তার ঢেঁকি ছাঁটা ঘরে ভিড় করছে ক্রেতারা।
 
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল কবির বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলাম। ডাক্তার আমাকে লাল চাল খেতে বলেছিলেন। পরে আকতার হোসেনের ঢেঁকি ঘরের চাল খেয়ে এখন আমি সুস্থ।’
 
রহিম উদ্দিন, যিনি বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন, বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ঢেঁকি ছাঁটা লাল চাল খেয়ে আমি ভালো আছি। আকতার হোসেনের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

আরেক গ্রাহক কামাল হোসেন বলেন, ‘আগে অতিরিক্ত ওজনে ভুগতাম। সাত বছর ধরে ঢেঁকি ছাঁটা লাল চাল খেয়ে এখন অনেকটা সুস্থ আছি।’
 
আকতার হোসেনের ঢেঁকি ঘরে তিনজনের কর্মসংস্থান হয়েছে। নিয়মিত বেতন ও সুবিধা পেয়ে খুশি তারা। কর্মচারী আনোয়ারা বলেন, ‘আগে অনেক কষ্টে দিন কাটতো। এখন এখানে কাজ করে মাসে সাত থেকে আট হাজার টাকা বেতন পাই। জীবনে অনেক উন্নতি হয়েছে।’
 
আরেক কর্মচারী জাহানারা বলেন, ‘এখানে খুব ভালো মানের চাল হয়। আমাদের চাল অনেক জেলার মানুষ খায় এটা আমাদের জন্য গর্বের।’
 
আকতার হোসেন জানান, ২০২০ সালে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। চিকিৎসক তাকে লাল চালের ভাত খাওয়ার পরামর্শ দেন। তখন থেকেই তিনি নিজেই ঢেঁকি ছাঁটা লাল চাল উৎপাদনের চিন্তা করেন। ফেসবুক ও ইউটিউব দেখে তৈরি করেন ইলেকট্রনিক ঢেঁকি। শুরুতে অনেকেই উপহাস করলেও এখন তার চাল বিক্রি হচ্ছে জেলার বাইরেও।
 
তিনি বলেন, ‘প্রতি মাসে প্রায় ৫ টন আমন ও আউশ ধানের চাল বিক্রি হয়। নিজের অসুস্থতা কাটিয়ে এখন সুস্থ আছি এবং আয় করছি মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।’ সূত্র: সময় 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়