শিরোনাম
◈ সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার ◈ বিশ্বের ধনীতমদের একজন, বিলাসবহুল প্রাসাদ নয়, ছোট্ট ঘরেই থাকেন ইলন মাস্ক, কারণ কী? ◈ দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশ এখন বাংলাদেশ, বিশ্বের সবচেয়ে কম শান্তিপূর্ণ দেশ রাশিয়া ◈ ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ এআই মডেল নিয়ে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র, চ্যাটজিপিটির প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ক্লড ফেবল ৫’ স্থগিত, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন! ◈ বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর, অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করতে পাবেন পেনশন! ◈ চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে বিএসএফের ১১ জনের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ করল বিজিবি ◈ গণমাধ্যম এখন বিজনেস হাউসের প্রতিনিধি হয়ে গেছে: মির্জা ফখরুল ◈ আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কত? যা জানাগেল ◈ এবার পরিবর্তন হচ্ছে যে উপজেলার নাম ◈ ফজরের নামাজের সময় খুলনায় মসজিদে দুর্বৃত্তদের গুলিতে দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ

প্রকাশিত : ৩০ মার্চ, ২০২৬, ০৬:৫৩ বিকাল
আপডেট : ১০ মে, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ছেলেকে হারিয়ে নিঃস্ব দুলন মিয়া: ভিটেমাটি বন্ধক, ১৮ লাখ টাকাও শেষ, লাশও মিলল না

ইউরোপের নীল জলরাশি আর সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্নে বিভোর সুনামগঞ্জের ১২ জন তরুণের জীবনপ্রদীপ চিরতরে নিভে গেছে উত্তাল ভূমধ্যসাগরে। প্রিয়জনদের নিথর দেহগুলো শেষবারের মতো দেখার সুযোগটুকুও হারিয়েছে পরিবারগুলো। যার ফলে সুনামগঞ্জ জেলা জুড়ে এখন কেবলই শোকের মাতম আর বুকফাটা আর্তনাদ।

জানা যায়, লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে ইউরোপ পাড়ি দেওয়ার এই ভয়ঙ্কর নেশা কেড়ে নিয়েছে এই ১২টি তাজা প্রাণ। এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে সুনামগঞ্জের আকাশ-বাতাস এখন বিলাপ আর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে।

নিহতদের একজন নাঈম আহমেদ (২৪)। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের চিলাউড়া মাঝপাড়া গ্রামের দুলন মিয়ার তিন সন্তানের মধ্যে সবার ছোট তিনি। গ্রামে বাবার চায়ের দোকানে সহযোগিতা করতেন তিনি। তবে এলাকার আরও কয়েকজনের সঙ্গে গ্রিসে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৭ ডিসেম্বর ঢাকা ছাড়েন এই তরুণ। 

এ জন্য দুলন মিয়া ১৬ শতকের ঘর-ভিটা বন্ধক রাখেন। নাঈমকে গ্রিসে পাঠানোর জন্য ১৮ লাখ টাকা দালালকে দিয়েছেন তিনি। দুলন মিয়া বলেন, ছেলেও গেল, বাড়িঘরও হারালাম। ঋণ শোধ করে ভিটেমাটি উদ্ধার করার মতো অবস্থা আমার নেই। ছেলের লাশও পেলাম না। 

তিনি আরও বলেন, যাওয়ার সময় ছেলের হাতে ৭০০ ডলার দিই। ২৫ হাজার টাকা দিয়ে মোবাইল সেট কিনে দিয়েছি। বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার পর থেকে একবারও ছেলের সঙ্গে কথা হয়নি। তবে অন্যের মোবাইল দিয়ে মেসেজ পাঠাত। খাবার ও পানির কষ্টের কথা বলত। দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানাত। ২০ মার্চ সর্বশেষ খুদে বার্তা পাঠায়।

নৌকায় চড়ে ইউরোপের উদ্দেশে সাগর পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন নাঈমের মতো আরও অনেক বাংলাদেশি। দালালরা অনেক বড় স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া পর্যন্ত নিয়ে যায়। সাগর পথে লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। নিহত কারও লাশ মেলেনি। সাগরে নিথর দেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, রাবারের নৌকায় করে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসের দিকে নেওয়া হচ্ছিল কিছু বাংলাদেশিকে। এদের মধ্যে মৃত ১৮ জনকে দুদিন নৌকায় রেখে পরে তাদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। জীবিত উদ্ধার ২১ বাংলাদেশিসহ ২৬ জনকে রাখা হয়েছে গ্রিসের একটি ক্যাম্পে। তাদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর অসুস্থ। 

শনিবার বেঁচে ফেরা একই নৌকার ২১ বাংলাদেশি গ্রিসের কোস্টগার্ডকে জানান, ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা গেছেন। ১৮ বাংলাদেশি ছাড়া বাকি চারজন বিভিন্ন দেশের নাগরিক। নৌকাটি পথ হারিয়ে সাগরে ছয় দিন ভাসছিল। এতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়। 

বাংলাদেশ মিশন ইতোমধ্যে গ্রিসের কোস্টগার্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সহযোগিতা এবং নিহতদের মরদেহের সন্ধান পেলে ফিরিয়ে আনার উপায় খোঁজা হচ্ছে। 

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে জীবিত উদ্ধার হওয়া একজন জানান, একটি ছোট নৌকায় তারা ৪৩ জন ছিলেন, যার মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। তাদের একটি বড় নৌকায় পাঠানোর কথা বলে শেষ মুহূর্তে ছোট নৌকায় তুলে দেয় পাচারকারীরা। 

সিআইডির মানব পাচার প্রতিরোধ ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লা বলেন, গ্রিসে যাওয়ার পথে ১৮ বাংলাদেশি মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দূতাবাস। যেসব দালাল তাদের নিয়েছে তাদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। ভূমধ্যসাগরে নিহতদের মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। দিরাই উপজেলার ছয়জন, জগন্নাথপুরের পাঁচজন এবং দোয়ারাবাজারের একজন রয়েছেন। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের বাসিন্দাও রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দীর্ঘ সময় সমুদ্রে ভেসে থেকে তাদের মৃত্যু হয়েছে। সূত্র- সমকাল

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়