শিরোনাম
◈ বাংলাদেশকে স্বনির্ভর ও শিল্পোন্নত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: মির্জা ফখরুল ◈ ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশল: অর্থনীতির জন্য কতটা ইতিবাচক? ◈ ক্রিকেটার নাঈমের শারী‌রিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে চট্টগ্রামে গে‌লেন বিসিবির ফিজিওরা ◈ ব্রাজিলের এক‌টি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ মরক্কোর বিপক্ষে জয় চান না ◈ ইংল্যান্ড দ‌লের বল ও বুটসহ অ‌নেক অনুশীলন সরঞ্জাম চুরি ◈ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে একটি করে গাছ লাগান: প্রধানমন্ত্রী ◈ বিপ্লবের পর বাস্তবতার মুখে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা ◈ জুলাইয়ে সমাহিত হবেন খামেনি, ঘোষণা ইরানের ◈ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধে ইরানের সঙ্গে গোপন সমঝোতা আমিরাতের? ১০-২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের তথ্য প্রকাশ করল রয়টার্স ◈ ‘দেশের মালিক ২০ কোটি মানুষ, কোনো দল বা পরিবার নয়, জনগণের সমর্থন নিয়েই দেশের ভাগ্য বদলাবে বিএনপি’

প্রকাশিত : ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:২৬ রাত
আপডেট : ০৮ জুন, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অসুস্থ কাক‌কে চিকিৎসা দি‌লেন প্রা‌ণিসম্পদ হাসপাতালের চি‌কিৎসকেরা

কল‌্যাণ বড়ুয়া, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এক ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনার জন্ম দিয়েছে একটি অসুস্থ কাক। পক্স রোগে আক্রান্ত কাকটি যেন নিজেই চিকিৎসার প্রয়োজন বুঝে হাজির হয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাটি স্থানীয়দের মাঝে বিস্ময় ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

জানা যায়, সকাল প্রায় ৯টার দিকে হাসপাতালের বারান্দার প্রবেশমুখে কাকটিকে দেখতে পান কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। প্রথমে সেটিকে স্বাভাবিক মনে হলেও কিছুক্ষণ পর কাকটির অস্বাভাবিক আচরণ চিকিৎসকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কাকটি ডাকতে ডাকতে চিকিৎসকদের দিকে এগিয়ে আসলে তারা সেটিকে হাতে নিয়ে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, কাকটি পক্স ভাইরাসে আক্রান্ত এবং শরীরজুড়ে অসংখ্য ক্ষত ও চামড়ার পিণ্ড (বিষফোড়া) রয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সপন নন্দ্বী ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা দ্রুত কাকটির চিকিৎসা শুরু করেন। ক্ষতস্থান আয়োডিন দিয়ে পরিষ্কার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয়।

চিকিৎসার সময় কাকটির আচরণও ছিল বিস্ময়কর। সাধারণত বন্য পাখি চিকিৎসার সময় অস্থির হয়ে উঠলেও এই কাকটি ছিল সম্পূর্ণ শান্ত, কোনো প্রতিরোধ করেনি।

প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ অফিসে কর্তব্যরত ডা. জুলকারনাইন শাওন প্রতিবেদক কে বলেন, সকাল ৯টার দিকে আমরা হাসপাতালে ঢোকার সময় দরজার সামনে একটি কাক দেখতে পাই। পরে সেটি ডাকতে ডাকতে আমাদের দিকে এগিয়ে আসে। হাতে নিয়ে দেখি এটি পক্স রোগে আক্রান্ত। তখনই আমরা চিকিৎসা শুরু করি।'

তিনি আরও বলেন, 'সকালেই কাকটিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর ছেড়ে দিলে হাসপাতালের আশে-পাশেই অবস্থান করে কাকটি। পরে আবার বিকেলে তাকে ওষুধ সেবন করানো হয়। কাকটি যদি এখানে থাকে, তাহলে পর্যায়ক্রমে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে।'

চিকিৎসার পর কাকটিকে ছেড়ে দেওয়া হলে এটি হাসপাতালের আশপাশেই অবস্থান করতে থাকে। মাঝে মাঝে গাছের ডালে বসে আবার হাসপাতালের বারান্দায় ফিরে আসে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কাকটিকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই ঘটনাটিকে 'প্রকৃতির ভাষায় সাহায্য চাওয়া' হিসেবে দেখছেন।

এ ঘটনা শুধু একটি অসুস্থ পাখির চিকিৎসা নয়, বরং মানুষের সহানুভূতি ও প্রাণীর প্রতি দায়বদ্ধতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। নীরব প্রাণীরাও যে কষ্ট বোঝাতে পারে–বাঁশখালীর এই কাক যেন সেটিই মনে করিয়ে দিল।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়