শিরোনাম
◈ নিখোঁজের রহস্যের অবসান, লাকসাম স্টেশনে আহত অবস্থায় খোঁজ মিলল জিসানের ◈ বিশ্বকাপের মঞ্চে সিআইএর গোপন অপারেশন? ইংল্যান্ডের গোলরক্ষককে বিষপ্রয়োগের দাবি ◈ গ্যাস-তেল অনুসন্ধানে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে সরকার, ৬৯টি কূপ খনন করবে বাপেক্স ◈ অনিশ্চয়তায় প‌ড়ে‌ছে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভর্তি রোগীরা, লাইসেন্স বাতিল ঘিরে বিতর্ক ◈ সীমান্তে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণে পুনরায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ-ভারত ◈ ‘সুপার’ এল নিনোর আনুষ্ঠানিক আগমন, পরিস্থিতি দ্রুতই ভয়ংকর হতে পারে: বিজ্ঞানীরা ◈ কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে না, আমাদের উন্নয়নে চীন সহযোগিতা করছে: মির্জা ফখরুল ◈ বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়েছে: অর্থমন্ত্রী ◈ করের ক্ষেত্রে যে আটটি পরিবর্তন আসছে ◈ "ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা ট্রাম্পের, সামরিক অভিযান থেকে সরে এসে বললেন, চুক্তি ‘প্রায় চূড়ান্ত’, ইউরোপে সই হবে"

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:১৪ রাত
আপডেট : ০৮ জুন, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এক দশক ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চিংড়াখালীর গাজী মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনপদ বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ৬নং চিংড়াখালী ইউনিয়নের ৪৬নং গাজী মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ এক দশক ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শ্রেণিকক্ষে বসছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। ভবন ধসে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় উদ্বেগে দিন কাটছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টির বর্তমান ভবন নির্মিত হয় ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে। সময়ের ব্যবধানে প্রায় তিন দশক পার হওয়া ভবনটি এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। দেয়ালে বড় বড় ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া, বারান্দার পিলারে ক্ষয় এবং লোহার রড বেরিয়ে আসা—সব মিলিয়ে ভবনটি যেন এক নীরব বিপদের নাম।

বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কোথাও ছাদের অংশ ঝুলে আছে, আবার কোথাও মেঝেতে পড়ে আছে ভাঙা পলেস্তারা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, মাঝেমধ্যেই ছাদ থেকে সিমেন্ট খসে পড়ে। ফলে ক্লাস চলাকালে সবসময় এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করে।

বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৭১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক পদ পাঁচটি থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। ২০২০ সাল থেকে প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জাকারিয়া হাওলাদার। শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত দুরবস্থার মধ্যেও শিক্ষার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

দুপুরে পাঠদান চলাকালে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বই হাতে মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করলেও চোখেমুখে স্পষ্ট ভয় কাজ করছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আমেনা আক্তার, নাদিয়া আক্তার ও রুম্মান শিকদারসহ অন্যরা জানায়,
“আমরা ভয়ে ভয়ে ক্লাস করি। কখন মাথার ওপর কিছু পড়ে যায় এই আতঙ্কে থাকি। আমাদের একটি নতুন ভবন দরকার।”

শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, অভিভাবকরাও রয়েছেন চরম উৎকণ্ঠায়। অভিভাবক মোকলেছুর রহমান, নাজিম উদ্দিন ও সাবেক ইউপি সদস্য শাহিন শিকদার বলেন,
“বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিনের পুরনো হলেও শিক্ষার মান ভালো। কিন্তু ভবনের ঝুঁকির কারণে অনেকেই সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে সন্তানদের পাঠাতে হয়।”

স্থানীয়দের মতে, বিদ্যালয়টি এলাকার প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বহু শিক্ষার্থী এখান থেকে লেখাপড়া করে উচ্চশিক্ষায় গিয়েছে। অথচ আজ সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠ নিতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তারা দ্রুত জরাজীর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড—এই কথাটি শুধু স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। কোমলমতি শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। চিংড়াখালীর গাজী মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান চিত্র যেন সেই দায়িত্ববোধেরই এক কঠিন পরীক্ষা।

এখন দেখার বিষয়, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেয় কি না।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়