কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ছাত্রশিবির নেতা জিসান প্রধান অপহরণ হননি, তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে দাবি করছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।
লাকসাম থেকে শুক্রবার (১২ জুন) রাতে উদ্ধারের পর ছাত্রশিবির নেতা জিসান দাবি করেছিলেন, তাকে গাড়িযোগে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে কুমিল্লা জেলা পুলিশ রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি, তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, গত ২০ মে জিসান তার দাউদকান্দির ভাড়া বাসায় নিয়ে বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণ করে। পরে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ওষুধের মাধ্যমে বাচ্চা নষ্ট করা হয়। এ ঘটনার পর ওই নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে শুক্রবার বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দিয়েছিলেন।
বিবৃতিতে পুলিশ আরও জানায়, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জিসান বিয়ে না করার টালবাহানায় নিজেই আত্মগোপন করেন। এ ঘটনায় তার চাচাতো ভাই রাসেল আহাম্মদের মাধ্যমে থানায় নিখোঁজের বিষয়ে জিডি করেন। এদিকে জিসানের নাটকীয় উদ্ধারের খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে ওই নারী বাদী হয়ে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে জিসানকে প্রধান আসামি করে চার জনের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুজ্জামান বলেন, নিখোঁজ শিবির নেতাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে কেউ অপহরণ করেনি। এক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক ঘটনার জের ধরে সে নিজে আত্মগোপনে ছিল। ওই নারী তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমনে মামলাটি করা হয়। ওই নারী তার বিরুদ্ধে ভ্রূণ নষ্টসহ বেশ কিছু অভিযোগ করেছেন।
এর আগে, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তাকে রেলওয়ে জংশন থেকে উদ্ধার করে লাকসাম ক্রসিং থানা পুলিশ।
অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক। তিনি শিবিরের কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।