শিরোনাম
◈ বি‌পিএলের দুরাবস্থা, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের র‍্যাঙ্কিংয়ে সবার নিচে  ◈ সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত, কোনটি কোথায় যাবে ◈ চীনা অর্থায়নে দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতুসহ ২০ মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা ◈ আধুনিক প্রযুক্তির লড়াইয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের রেকর্ড ভাঙল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ◈ ‘আমি মন্ত্রীর পিছে টাকা নিয়ে ঘুরিনি’: আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ◈ ব্রা‌জি‌লের বিরু‌দ্ধে মর‌ক্কো দ‌লের একাদশে ১১ জনই ছি‌লো জন্মসূত্রে বিদেশি, বিশ্বকাপে অনন্য কীর্তি ◈ অক্সফোর্ডে অনুষ্ঠান শেষে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের স্লোগান, পাল্টা হাসনাত আবদুল্লাহর ‘মিডল ফিঙ্গার’ প্রদর্শন ◈ রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে দ্রুত এআই ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ বেনজীরকে দেশে ফেরাতে বাংলাদেশকে ৩০ দিনের সময় দিল সংযুক্ত আরব আমিরাত ◈ ডা. জাহেদ ইস্যুতে ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:০৫ সকাল
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : আরমান হোসেন

সমুদ্রের নিচে ইরানের বিশাল ‘মিসাইল সিটি’: মার্কিন রণতরী ঠেকাতে রণপ্রস্তুতি

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হওয়ার মাঝেই সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে রাখা নিজেদের বিশাল মিসাইল সুড়ঙ্গ বা আন্ডারগ্রাউন্ড মিসাইল সিটির দৃশ্য প্রকাশ্যে এনেছে ইরান। বুধবার(২৮ জানুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সমুদ্রপৃষ্ঠের অনেক গভীরে তৈরি করা এসব সুড়ঙ্গে শত শত ক্রুজ মিসাইল যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ শাখার কমান্ডার আলীরেজা তাঙসিরি এই সুড়ঙ্গ থেকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানের ওপর কোনো আঘাত এলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আর কারও জন্য নিরাপদ থাকবে না।

ইরানি নৌ কমান্ডারের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা দ্রুতই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আলীরেজা তাঙসিরি দাবি করেছেন, ওমান সাগর ও পারস্য উপসাগরে মোতায়েন থাকা মার্কিন নৌজাহাজগুলোকে মোকাবিলা করতেই এই গোপন নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। এসব সুড়ঙ্গে থাকা মিসাইলগুলো ১ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। বিশেষ করে তাদের নতুন কাদের ৩৮০ এল মিসাইলটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন স্মার্ট যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি, যা লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস না করা পর্যন্ত পিছু ছাড়ে না। এই প্রযুক্তিগত প্রদর্শনীর মাধ্যমে ইরান মূলত ওয়াশিংটনকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মেজাজ এখন আগের চেয়েও অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে গতবারের চেয়েও ভয়াবহ হামলার হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিশালাকার রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর নেতৃত্বে একটি বিশাল নৌবহর প্রচণ্ড গতিতে ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গত বছরের জুনে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যে ক্ষতি করা হয়েছিল, এবার হামলা হলে তার মাত্রা হবে বহুগুণ বেশি। ট্রাম্পের সাফ কথা, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র ত্যাগের চুক্তিতে সই করতে হবে অথবা ধ্বংসাত্মক হামলার মুখোমুখি হতে হবে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। একদিকে সমুদ্রের নিচ থেকে ইরানের মিসাইল সুড়ঙ্গের হুমকি, অন্যদিকে সমুদ্রের বুক চিরে ধেয়ে আসা মার্কিন নৌবহরের হুঙ্কার—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন বারুদে ঠাসা। বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সূত্র: দ্য নিউ আরব

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়