শিরোনাম
◈ সরকার তিন মাসেও কেন হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলো না? ◈ কাউন্টি ক্রিকে‌টে আরও ভয়ংকর বাংলা‌দে‌শের হাসান, রোমাঞ্চকর জয় কেন্টের ◈ যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তিচুক্তির ৯ দফা: যা থাকছে সমঝোতায় ◈ ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যেত: জামায়াত আমির ◈ সেবায় অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগে ২১ ওমরাহ কোম্পানির লাইসেন্স স্থগিত করল সৌদি ◈ বেরোবির সাবেক ভিসি কলিমুল্লাহকে জামিন দিল হাইকোর্ট ◈ চীনা বিনিয়োগ টানতে বিশেষ পরিকল্পনা, জানালেন বিডা চেয়ারম্যান ◈ শেষ পর্যন্ত থামেনি উত্তেজনা, ২–২ ড্রয়ে শেষ জাপান-নেদারল্যান্ডস লড়াই ◈ গভীর রাতে টেকনাফে গুলিবর্ষণ, আতঙ্কে নির্ঘুম জুম্মাপাড়ার মানুষ ◈ দিল্লিতে প্রবেশে বাধা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে, ফয়েজের ফেসবুক স্ট্যাটাস

প্রকাশিত : ০৫ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫১ দুপুর
আপডেট : ১২ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইরান কি উত্তর কোরিয়ার সহযোগিতায় আন্তঃমহাদেশীয় মিসাইল তৈরি করছে?

ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে গড়ে ওঠা সামরিক সমঝোতার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনার দাবি করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ড. ব্রুস ই. বেচটল জুনিয়র। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) প্রোগ্রামের নেপথ্যে রয়েছে উত্তর কোরিয়ার সরাসরি প্রযুক্তিগত সহায়তা। এই বিশেষজ্ঞের দাবি, বছরের পর বছর ধরে চলা এই গোপন পার্টনারশিপ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের এই সক্ষমতাকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশেষ করে সিএনএন-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো অজ্ঞাত পেন্টাগন সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করে আসছিল, ইরানের হাতে আইসিবিএম তৈরির মতো প্রযুক্তি নেই। কিন্তু বেচটল তার গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, উত্তর কোরিয়া থেকে ৮০ টন ওজনের রকেট বুস্টার ইরানে পাচার করার সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে, যা আইসিবিএম তৈরির মূল ভিত্তি।

এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির মূলে রয়েছে এইচওয়াসং-১৫ নামক উত্তর কোরীয় মিসাইল। উত্তর কোরিয়া ২০১৩ সাল থেকেই ইরানকে এই ৮০ টনের রকেট বুস্টার তৈরিতে সহায়তা শুরু করে বলে জানা যায়। ২০১৫ সালে যখন বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি বা জেসিপিওএ নিয়ে আলোচনা চলছিল, তখনও গোপনে পিয়ংইয়ং থেকে তেহরানে রকেটের চালান পাঠানো হয়েছিল। এই ঘটনা প্রমাণ করে, কূটনৈতিক আলোচনার আড়ালে ইরান তার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়িয়েই চলছিল।

২০১৬ সালে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ উত্তর কোরিয়া ও ইরানের বেশ কিছু কোম্পানি ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার মাধ্যমে এই অবৈধ লেনদেনের বিষয়টি নিশ্চিত করে। উত্তর কোরিয়ার এইচওয়াসং-১২ এবং এইচওয়াসং-১৫ মিসাইলে ব্যবহৃত আরডি-২৫০ ইঞ্জিনের অনুকরণে ইরান তাদের নিজস্ব সিস্টেম তৈরি করেছে। এই ইঞ্জিনগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠে ৮০ টন থ্রাস্ট তৈরি করতে সক্ষম, যা একটি ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রায় ৮ হাজার মাইল দূরে লক্ষ্যভেদে সহায়তা করে।

বেচটলের গবেষণা অনুসারে, উত্তর কোরিয়া কেবল প্রযুক্তি দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি বরং তাদের বিশেষজ্ঞ দল নিয়মিত তেহরান সফর করেছে। উত্তর কোরিয়ার কুখ্যাত অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘কোরিয়া মাইনিং ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি’ এবং ‘গ্রিন পাইন’-এর প্রতিনিধিরা বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল আইসিবিএম নয় বরং স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রযুক্তিতেও ইরানকে শক্তিশালী করে তুলছে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ২০২১ সালের একটি রিপোর্টও এই দাবির সপক্ষে তথ্য প্রদান করেছে। সেখানে বলা হয়েছিল, ২০২০ সাল পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া থেকে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা হয়েছে। এমনকি ২০২০ সালে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ইরানি কর্মকর্তা সৈয়দ মীর আহমদ নুশিনকে উত্তর কোরীয়দের সঙ্গে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

সূত্র: নাইনটিন ফোরটি ফাইভ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়