শিরোনাম
◈ বাজেট ২০২৬–২৭: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ১০ অগ্রাধিকার ◈ পোলট্রি ও ফিশ ফিডে বিষাক্ত ট্যানারি বর্জ্য, বাড়ছে ক্যানসারসহ নানা রোগ, সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি! ◈ যে ছেলে একসময় টিফিনের টাকাও জোগাড় করতে পারত না, আজ দুবাইয়ে ২০ হাজার কোটির মালিক ◈ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা ◈ ভারতের সব কর্মীকে ছাঁটাই করল ওপেনডোর, কারণ দেখালো ‘গ্রাহকরা আমেরিকায়’ ◈ বেনাপোল বন্দরের শেড থেকে উধাও ৬ কোটি টাকার পণ্য, ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা ◈ বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাস: তাজউদ্দীন থেকে আমির খসরু, কে কত দিলেন? ◈ অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল বাংলাদেশের অর্থনীতি, নতুন রেকর্ড জিডিপিতে ◈ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের তথ্য দিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেল করতে চেয়েছিল এপস্টেইন: বিল গেটস ◈ ব্রাজিলকে হালকাভাবে নিলে ভুগতে হবে, বিশ্বকাপে নামার আগে মিডফিল্ডার ব্রুনোর হুম‌কি

প্রকাশিত : ০৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৯ দুপুর
আপডেট : ০৯ জুন, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হিমালয়ের এভারেস্ট অঞ্চলে বিদেশি পর্যটকদের বিষ খাইয়ে ১৫০ কোটি টাকার বিমা জালিয়াতি!

পিপল ডট কম: হিমালয়ের এভারেস্ট অঞ্চলে বিদেশি পর্যটকদের টার্গেট করে ভয়ংকর এক বিমা জালিয়াতির চিত্র সামনে এসেছে। খাবারে বিষাক্ত উপাদান মিশিয়ে পর্যটকদের অসুস্থ করে পরে জরুরি হেলিকপ্টার উদ্ধারের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে।

নেপাল পুলিশের সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো জানায়, এই জালিয়াতির পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ১৫০ কোটির বেশি।

তদন্তে উঠে এসেছে, চক্রটির শিকড় বিস্তৃত। এতে শেরপা গাইড, হেলিকপ্টার অপারেটর, হাসপাতাল ও ল্যাবরেটরির কর্মকর্তারাও জড়িত।

তদন্তকারীরা জানান, পরিকল্পিতভাবে এই জালিয়াতি পরিচালিত হতো। প্রথমে পর্যটকদের খাবারে বেকিং সোডা, কাঁচা মুরগির মাংস এমনকি ইঁদুরের বিষ্ঠা পর্যন্ত মিশিয়ে দেওয়া হতো। এতে পর্যটকদের শরীরে বমি ভাব, মাথাব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দিত, যা উচ্চতাজনিত অসুস্থতার লক্ষণের মতোই।

এরপর গাইডরা পর্যটকদের ভয় দেখিয়ে দ্রুত হেলিকপ্টার উদ্ধারে রাজি করাতেন। নিচে নামানোর পর শুরু হতো মূল জালিয়াতি। অনেক ক্ষেত্রে সুস্থ পর্যটকদেরও ‘উদ্ধার’ দেখিয়ে বিমা কোম্পানির কাছে আলাদা আলাদা বিল পাঠানো হতো।

নেপাল পুলিশের তথ্যমতে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৪ হাজার ৭৮২ জন আরোহী এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ইতোমধ্যে ৩০০টির বেশি ভুয়া উদ্ধার অভিযানের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এই ঘটনায় ৩৩ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ট্রেকিং কোম্পানি, হেলিকপ্টার অপারেটর এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রয়েছে।

নেপাল পুলিশ এই ঘটনাকে শুধু আর্থিক জালিয়াতি নয়, দেশের মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখছে। এর আগে ২০১৮ সালেও একই ধরনের কেলেঙ্কারি সামনে এসেছিল।

সিআইবি প্রধান মনোজ কুমার কেসি বলেন, অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই এ ধরনের জালিয়াতি বিস্তার লাভ করেছে।

এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিমা কোম্পানিগুলো নেপালকে কাভারেজ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এতে দেশটির পর্যটন খাত বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

নেপাল টুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে প্রতিটি উদ্ধার অভিযান কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি পর্যটকদের গাইড বা কোম্পানি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়