শিরোনাম
◈ করের ক্ষেত্রে যে আটটি পরিবর্তন আসছে ◈ "ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা ট্রাম্পের, সামরিক অভিযান থেকে সরে এসে বললেন, চুক্তি ‘প্রায় চূড়ান্ত’, ইউরোপে সই হবে" ◈ ধৃষ্টতা সকল সীমা ছাড়িয়েছ’; অভিনেত্রী শাওনকে নিয়ে তাজুল ইসলামের ক্ষোভ ◈ উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন, ভালো চাকরির ফাঁদে বিদেশে গিয়ে সাইবার স্ক্যামে বাধ্য, দেশে ফিরলেন ৩৭ বাংলাদেশি ◈ জুনের প্রথম ১০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১২০ কোটি ৩১ লাখ মার্কিন ডলার ◈ দক্ষিণ আফ্রিকায় ঢুকতে গিয়ে বিপাকে ৯ বাংলাদেশি, মিলল ভুয়া পাসপোর্ট-ভিসার প্রমাণ ◈ বিশ্বকাপে দ‌ক্ষিণ কো‌রিয়ার দারুণ সূচনা ◈ আদ্-দ্বীনের হাসপাতাল নয়, বাতিল হয়েছে প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স: দাবি আইনজীবী শিশির মনিরের ◈ স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস ও হামে শিশুমৃত্যুর জন্য ড. ইউনূসের বিচার চাইলেন শেখ হাসিনা ◈ ‌বিশ্বকা‌পে ব্রাজিল বনাম মর‌ক্কো ম্যাচের রেফা‌রি দেহব্যবসায় জড়িত মামলার আসা‌মি স্লাভকো ভিনচিচ

প্রকাশিত : ১৩ মে, ২০২৬, ১১:০৬ দুপুর
আপডেট : ১১ জুন, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আফগানদের ‘কানগানা’ পদ্ধতি: আধুনিক হিমাগার ছাড়াই ৬ মাস সতেজ থাকছে আঙুর

আধুনিক হিমাগার বা রাসায়নিক ছাড়াই শীতের তীব্রতায় সতেজ আঙুরের স্বাদ নিতে পারছেন আফগানিস্তানের মানুষ। 

দেশটির রাজধানী কাবুলের উত্তর উপকণ্ঠে অবস্থিত কালাকান জেলার বাসিন্দারা এক হাজার বছরের পুরনো একটি ঐতিহ্যবাহী কৌশলে এ ফল সংরক্ষণ করে আসছেন, যা আজও সমান জনপ্রিয়। 

আফগানিস্তানের বিশেষ এ পদ্ধতিটির নাম ‘কানগানা’। এটি মূলত কাদা ও খড় মিশিয়ে তৈরি করা একটি বায়ুরোধী মাটির পাত্র। গ্রীষ্মকালে কাদা ও খড় মিশিয়ে বাটির মতো দুটি অংশ তৈরি করা হয়, যা রোদে শুকিয়ে শক্ত করা হয়। এটাকেই বলা হয় কানগানা। এর ভেতর আঙুর রেখে মুখটি কাদা দিয়ে সিল করে দেওয়া হয়। 

এ পদ্ধতিতে অক্টোবর মাসে সংরক্ষণ করলে পরবর্তী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত আঙুর সতেজ থাকে। কেবল মাটি ও খড় দিয়ে ‘কানগানা’ নামের এ পাত্র তৈরি করা হয়। ফল রাখার পর পাত্রটি সম্পূর্ণ বায়ুরোধী করে একটি শীতল ও শুষ্ক স্থানে রেখে দেওয়া হয়। 

অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব 

আফগান সাংস্কৃতিক বিশেষজ্ঞ আকরামি ফেন্দাকাস্তানি সিনহুয়াকে জানান, কানগানা কেবল একটি পাত্র নয়, এটি গ্রামীণ জনপদের টিকে থাকার একটি আদিম ও মৌলিক কৌশল। এটি ফলের স্বাদ ও মান বজায় রাখতে প্রাকৃতিকভাবে কাজ করে।

বাজারের একজন বিক্রেতা উজির খান (৩৮) জানান, তিনি গত ২০ বছর ধরে এ পদ্ধতিতে আঙুর সংরক্ষণ করে বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, ‘এ বছর আমি ৫ হাজারটি কানগানা বিক্রি করেছি। প্রতিটি পাত্রে প্রায় এক কেজি আঙুর থাকে।’ এ ব্যবসার মাধ্যমেই তিনি তার ১০ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ করছেন। 

উপযুক্ত ফল ও বিশেষত্ব 

অবশ্য সব ধরনের আঙুর এ পদ্ধতিতে রাখা যায় না। মূলত ‘তাইফি’ জাতের আঙুরই কানগানার জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এ জাতের আঙুর আকারে বড়, রসালো এবং এর খোসা বেশ পুরু হয়, যা দীর্ঘ সময় পচে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। 

এক সময় আপেল ও মরিচও এ পদ্ধতিতে রাখা হতো, তবে বর্তমানে শীতকালেও সেগুলো বাজারে সহজলভ্য হওয়ায় মানুষ মূলত আঙুর সংরক্ষণের জন্যই কানগানা ব্যবহার করেন। কানগানার এ আঙুরের স্বাদ নিতে দেশটির কান্দাহার ও হেরাত প্রদেশের মতো দূরবর্তী অঞ্চল থেকেও মানুষ শত শত কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে কালাকানে ছুটে আসেন।

সূত্র: সিনহুয়া 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়