শিরোনাম
◈ বাজেট ২০২৬–২৭: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ১০ অগ্রাধিকার ◈ পোলট্রি ও ফিশ ফিডে বিষাক্ত ট্যানারি বর্জ্য, বাড়ছে ক্যানসারসহ নানা রোগ, সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি! ◈ যে ছেলে একসময় টিফিনের টাকাও জোগাড় করতে পারত না, আজ দুবাইয়ে ২০ হাজার কোটির মালিক ◈ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা ◈ ভারতের সব কর্মীকে ছাঁটাই করল ওপেনডোর, কারণ দেখালো ‘গ্রাহকরা আমেরিকায়’ ◈ বেনাপোল বন্দরের শেড থেকে উধাও ৬ কোটি টাকার পণ্য, ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা ◈ বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাস: তাজউদ্দীন থেকে আমির খসরু, কে কত দিলেন? ◈ অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল বাংলাদেশের অর্থনীতি, নতুন রেকর্ড জিডিপিতে ◈ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের তথ্য দিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেল করতে চেয়েছিল এপস্টেইন: বিল গেটস ◈ ব্রাজিলকে হালকাভাবে নিলে ভুগতে হবে, বিশ্বকাপে নামার আগে মিডফিল্ডার ব্রুনোর হুম‌কি

প্রকাশিত : ১৫ মে, ২০২৬, ১১:৫২ দুপুর
আপডেট : ১১ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : আর রিয়াজ

মোদি কেন ভারতীয়দের এক বছর সোনা না কেনার আহ্বান জানালেন?

আরটি: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য গণপরিবহন ব্যবহার, কারপুলিং এবং বাসা থেকে কাজ করার পরামর্শের পাশাপাশি তিনি ভারতীয়দের এক বছর সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান।

ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ আমদানিকারক দেশ। দেশটির বিপুল পরিমাণ সোনা আমদানির কারণে প্রতি বছর বৈদেশিক মুদ্রার বড় অঙ্কের ডলার ব্যয় হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ভারতের অর্থনীতির ওপর চাপ কমাতে সোনা আমদানি হ্রাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ মে পর্যন্ত ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৬৯০.৭ বিলিয়ন ডলার, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৭২৮ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল অনুমান করেছে, চলতি বছরে ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতি (CAD) বেড়ে ৮৪.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে স্বর্ণ আমদানিকে।

২০২৬ অর্থবছরে ভারতের স্বর্ণ আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭২ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, সোনা কেনার প্রবণতা কমানো গেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমবে এবং রুপির মান স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভারত যদি স্বর্ণ আমদানি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমাতে পারে, তাহলে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় সম্ভব। আর ৫০ শতাংশ কমানো গেলে সাশ্রয়ের পরিমাণ ৩৬ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই অর্থ জ্বালানি আমদানিসহ অন্যান্য জরুরি খাতে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ভারতের মতো বড় অর্থনীতির জন্য এতে ডলারের চাহিদা আরও বেড়ে যাচ্ছে।

তবে ভারতে সোনা শুধু বিনিয়োগ নয়, আবেগ ও সংস্কৃতিরও অংশ। বিশেষ করে বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে সোনার ব্যবহার ব্যাপক। তারপরও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারতীয়দের মধ্যে কিছুটা সংযমের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতে মোট সোনা কেনার পরিমাণ ১১ শতাংশ কমে ৭১০.৯ টনে নেমে আসে। একই সময়ে গহনার ব্যবহারও ২৪ শতাংশ কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সোনা কেনা কমানোর আহ্বান ভারতের অর্থনীতির জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়