শিরোনাম
◈ সঞ্চয়পত্র-ডিপিএসসহ ৯ খাতে বিনিয়োগে কর রেয়াত কমানোর ঘোষণা ◈ কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম  ◈ বাজেট ২০২৬–২৭: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ১০ অগ্রাধিকার ◈ পোলট্রি ও ফিশ ফিডে বিষাক্ত ট্যানারি বর্জ্য, বাড়ছে ক্যানসারসহ নানা রোগ, সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি! ◈ যে ছেলে একসময় টিফিনের টাকাও জোগাড় করতে পারত না, আজ দুবাইয়ে ২০ হাজার কোটির মালিক ◈ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা ◈ ভারতের সব কর্মীকে ছাঁটাই করল ওপেনডোর, কারণ দেখালো ‘গ্রাহকরা আমেরিকায়’ ◈ বেনাপোল বন্দরের শেড থেকে উধাও ৬ কোটি টাকার পণ্য, ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা ◈ বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাস: তাজউদ্দীন থেকে আমির খসরু, কে কত দিলেন? ◈ অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল বাংলাদেশের অর্থনীতি, নতুন রেকর্ড জিডিপিতে

প্রকাশিত : ১৭ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩০ রাত
আপডেট : ০৭ জুন, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঈদুল ফিতরের নামাজ শুদ্ধভাবে আদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

ইসলামি শরিয়তে ঈদুল ফিতরের নামাজ ওয়াজিব। এই নামাজে নির্দিষ্ট নিয়মে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির বলা হয় এবং তা জামাতে আদায় করা হয়। নিয়ত করার পদ্ধতি, নামাজের ধাপ, কোন সুরা পড়া সুন্নত এবং কেরাত কীভাবে আদায় করতে হয়— এসব বিষয় জানা থাকলে ঈদের নামাজ আরও শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে আদায় করা সম্ভব। যুগান্তরের পাঠকদের জন্য নিচে ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত, নিয়ম, কেরাত ও সংশ্লিষ্ট বিধান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো—

ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত

মনের ইচ্ছাই মূলত নিয়ত। নামাজে দাঁড়ানোর সময় যখন মনে থাকে যে আমরা ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করছি—এটাই নিয়ত। এর সঙ্গে মনে রাখতে হবে, এই নামাজ ওয়াজিব এবং এতে ছয়টি তাকবির রয়েছে। তবে এভাবে নিয়ত করা যায়—

‘আমি কেবলামুখী হয়ে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ এই ইমামের পেছনে ছয় তাকবিরের সঙ্গে আদায়ের নিয়ত করছি।’ এরপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নামাজ শুরু করতে হবে।

যারা বিশুদ্ধভাবে আরবি বলতে পারেন, তারা আরবিতেও নিয়ত করতে পারেন। তবে আরবি নিয়ত করা বা মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যক নয়। প্রচলিত আরবি নিয়ত—

نَوَيْتُ أنْ أصَلِّي للهِ تَعَالىَ رَكْعَتَيْنِ صَلَاةِ الْعِيْدِ الْفِطْرِ مَعَ سِتِّ التَكْبِيْرَاتِ وَاجِبُ اللهِ تَعَالَى اِقْتَضَيْتُ بِهَذَا الْاِمَامِ مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرْ

উচ্চারণ: ‘নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকাআতাইন সালাতিল ঈদিল ফিতরি মাআ সিত্তাতিত তাকবিরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তাআলা ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।

অর্থ: আমি ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ছয় তাকবিরসহ এই ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

ঈদের নামাজের নিয়ম

ঈদুল ফিতরের নামাজ দুই রাকাত। নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা বলে নামাজ শুরু করে ছানা পড়তে হয়। এরপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে আরও তিনটি অতিরিক্ত তাকবির দিতে হয়। প্রথম দুই তাকবিরের সময় হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে। তৃতীয় তাকবিরে হাত উঠিয়ে বেঁধে নিতে হবে। এরপর সুরা ফাতিহা ও অন্য একটি সুরা (কেরাত) মিলিয়ে রুকুতে গিয়ে প্রথম রাকাত সম্পন্ন করতে হবে।

দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়েসুরা ফাতিহা ও অন্য একটি সুরা (কেরাত) মিলানোর পর রুকুতে যাওয়ার আগে একইভাবে তিনটি তাকবির দিতে হবে। তবে এখানে তৃতীয় তাকবিরের সময় হাত না বেঁধে ছেড়ে দিতে হবে। এরপর চতুর্থ তাকবির বলে রুকুতে যেতে হবে। তারপর অন্যান্য নামাজের মতোই নামাজ শেষ করতে হবে। (কিতাবুল আছল ১/৩১৯, আলহাবীল কুদসী ১/২৪৩)

কেরাত—

ঈদের নামাজে প্রথম রাকাতে ‘সুরা আ‘লা’ এবং দ্বিতীয় রাকাতে ‘সুরা গাশিয়াহ’ পড়া সুন্নত। বিকল্পভাবে প্রথম রাকাতে ‘সুরা কফ’ এবং দ্বিতীয় রাকাতে ‘সুরা কমার’ পড়াও সুন্নত হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের নামাজে এসব সুরা তিলাওয়াত করতেন। তবে অন্য যেকোনো সুরাও পড়া যেতে পারে।

(মুসলিম ৮৭৮, নাসাঈ ১৫৬৭, কিতাবুল আছল ১/৩২১, আলমুহীতুল বুরহানী ২/৫০০)

কেরাত কীভাবে পড়বেন—

জুমার নামাজের মতো ঈদের নামাজেও কেরাত উচ্চস্বরে পড়া ওয়াজিব। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদ ও ইস্তিসকার নামাজে উচ্চস্বরে কেরাত পড়তেন। তাই ইমাম সাহেবও উভয় রাকাতেই উচ্চস্বরে কেরাত পড়বেন। (দারাকুতনী ১৮০৩, জামে সগীর পৃ. ১১৪)

ঈদের নামাজ ছুটে গেলে করণীয়—

কখনো দেরি হয়ে যাওয়া, ঘুম থেকে দেরিতে ওঠা বা অন্য কোনো কারণে ঈদের নামাজ ছুটে যেতে পারে। তখন অনেকেই ভাবেন, এই নামাজ পরে কাজা করে আদায় করা যাবে কি না।

না, ঈদের নামাজের কোনো কাজা নেই। কারো নামাজ ছুটে গেলে তিনি আশপাশের অন্য কোনো জামাতে শরিক হওয়ার চেষ্টা করবেন। তাও সম্ভব না হলে তওবা ও ইস্তেগফার করবেন। (শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ২/১৬১, আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৯৮, আলহাবীল কুদসী ১/২৪৪)

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়