শিরোনাম
◈ ধৃষ্টতা সকল সীমা ছাড়িয়েছ’; অভিনেত্রী শাওনকে নিয়ে তাজুল ইসলামের ক্ষোভ ◈ উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন, ভালো চাকরির ফাঁদে বিদেশে গিয়ে সাইবার স্ক্যামে বাধ্য, দেশে ফিরলেন ৩৭ বাংলাদেশি ◈ জুনের প্রথম ১০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১২০ কোটি ৩১ লাখ মার্কিন ডলার ◈ দক্ষিণ আফ্রিকায় ঢুকতে গিয়ে বিপাকে ৯ বাংলাদেশি, মিলল ভুয়া পাসপোর্ট-ভিসার প্রমাণ ◈ বিশ্বকাপে দ‌ক্ষিণ কো‌রিয়ার দারুণ সূচনা ◈ আদ্-দ্বীনের হাসপাতাল নয়, বাতিল হয়েছে প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স: দাবি আইনজীবী শিশির মনিরের ◈ স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস ও হামে শিশুমৃত্যুর জন্য ড. ইউনূসের বিচার চাইলেন শেখ হাসিনা ◈ ‌বিশ্বকা‌পে ব্রাজিল বনাম মর‌ক্কো ম্যাচের রেফা‌রি দেহব্যবসায় জড়িত মামলার আসা‌মি স্লাভকো ভিনচিচ ◈ আ‌মে‌রিকার বিরু‌দ্ধে যুদ্ধ ব‌ন্ধে ইরান এখন পর্যন্ত চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়‌নি ◈ ফুটবল বিশ্বকাপের মধ্যেই আজ থে‌কে শুরু হ‌চ্ছে আরো এক বিশ্বকাপ

প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:৫৯ বিকাল
আপডেট : ২৯ মে, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আসল পরিচয় প্রকাশ সেই সিরিয়াল কিলার সম্রাটের, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

সাভারে ভবঘুরে পরিচয়ে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া সিরিয়াল কিলারের পরিচয় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর নিজেকে ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ বলে পরিচয় দিলেও তার প্রকৃত নাম সবুজ শেখ বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, সবুজ শেখের বাবার নাম পান্না শেখ। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তার বড় বোনের নাম শারমিন। তার জন্মস্থান ও পৈতৃক বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামে। পরিবারের একাংশ বরিশাল এলাকায় বসবাস করে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নাম ও পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন এলাকায় ভবঘুরে নারীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ফাঁদ পেত সবুজ। পরে তাদের পরিত্যক্ত ও নির্জন ভবনে নিয়ে যেত। ওই নারীরা অন্য কারো সঙ্গে কিংবা অন্য কেউ তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ালে ক্ষিপ্ত হয়ে সে তাদের হত্যা করত। এসব হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আদালতে দেওয়া তার স্বীকারোক্তি যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আদালতে দেওয়া সবুজের তথ্যগুলোর সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সর্বশেষ ঘটনার তিন থেকে চার দিন আগে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে আসে সবুজ। সেখানে ওই তরুণীর সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবকের অনৈতিক সম্পর্কের ঘটনা ঘটলে প্রথমে যুবককে ভবনের দোতলায় নিয়ে হত্যা করে। পরে তরুণীকে নিচতলায় হত্যা করে দুজনের মরদেহ কাঁধে করে দোতলার টয়লেটে নিয়ে গিয়ে একসঙ্গে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে সাভার থানার সামনে থেকে সবুজ শেখকে আটক করে পুলিশ। পরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে এক কিশোরীসহ দুজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সোমবার পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে হাজির করলে জিজ্ঞাসাবাদে সে ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে সবুজ শেখ ওরফে সম্রাটকে সোমবার রাতেই কারাগারে পাঠানো হয়।

 প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, সম্রাট ওরফে সবুজ প্রথম খুন করেন ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। ওই দিন রাতে সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন তিনি। পরবর্তীতে ওই বছর ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে এক যুবককে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেন। এর প্রায় এক মাস পর ১১ অক্টোবর আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার হয় কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে। তাকেও সবুজ হত্যা করেন বলে স্বীকার করেছেন।

গত বছর ১৯ ডিসেম্বর ওই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরেই আরও এক যুবককে হত্যা করেন সবুজ।

এর আগে সাভারে ছয় খুনের ঘটনায় আটক হওয়ার পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এই সিরিয়াল কিলার খুনের দায় স্বীকার করে জানিয়েছেন ‘কোনো পাগল বা ভবঘুরেকে অনৈতিক যৌনাচারে লিপ্ত হতে দেখলেই তাদের “থার্টি ফোর” বা “সানডে মানডে ক্লোজ” করে দিতাম।’ 

সাভার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘সম্রাট পাগল নন। অতিরিক্ত নেশা করার কারণে তিনি কিছুটা মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। মানুষ খুন করা তার নেশায় পরিণত হয়েছিল। তার ভাষায়, হত্যাকে তিনি “থার্টি ফোর” বা “সানডে মানডে ক্লোজ” বলে উল্লেখ করতেন।’

হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, ‘সাভারে আসার পর ভবঘুরে ওই সিরিয়াল কিলার বেশির ভাগ রাত কাটিয়েছেন সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মডেল মসজিদে। ২০২৫ সালের ৪ জুলাই আসমা বেগম নামের এক বৃদ্ধকে হত্যার পর তিনি পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে চলে আসেন এবং ওই সেন্টারের নিচতলায় আস্তানা গাড়েন। এর পর থেকেই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধার হতে থাকে। গত পাঁচ মাসে ওই ভবন থেকে পাঁচটি লাশ উদ্ধার করা হয়। এ কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে ওই সেন্টারে নিয়মিতভাবে নজরদারি চালানো হতো। সম্রাটও সন্দেহের বাইরে ছিলেন না। কিন্তু কোনো ক্লু বা প্রমাণের অভাবে তাকে আইনের আওতায় আনা যাচ্ছিল না।’

হেলাল উদ্দিন জানান, নজরদারির অংশ হিসেবে গত শুক্রবার রাতে কমিউনিটি সেন্টার পরিদর্শনে গিয়ে এক কিশোরীকে সম্রাটের (ছদ্মনাম) বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। এ সময় সম্রাট পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। জানতে চাইলে ওই কিশোরী সম্রাটকে তার ভাই বলে সম্বোধন করেন এবং তিন দিন আগে কমিউনিটি সেন্টারে এসেছেন বলে জানিয়েছিলেন। পরের রাতেই (শনিবার রাত) ওই কিশোরীরসহ দুজনকে হত্যার পর তাদের মরদেহ পুড়িয়ে দেন সম্রাট। পরদিন রোববার দুপুরের পর তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে খুনের সঙ্গে সম্রাটের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে রোববার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল সোমবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি ছয় খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

হেলাল উদ্দিন বলেন, ভবঘুরে ওই সিরিয়াল কিলার দিনের বেলায় থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করলেও গভীর রাতে তার দেখা মিলত ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক বা পদচারী-সেতুতে। যেসব ভবঘুরে বা পাগল নারী-পুরুষ রাতে পদচারী-সেতুতে ঘুমাতেন, তাদের কাউকে কাউকে ফুসলিয়ে তিনি পৌর কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে আসতেন। যারা তার কথায় কমিউনিটি সেন্টারে আসতেন, তারাই খুনের শিকার হতেন।

জানতে চাইলে সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, খুনি ধরা পড়েছেন এবং খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছেন। এখন ভিকটিম, অর্থাৎ যারা খুন হয়েছেন, তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।

আরমান আলী আরও বলেন, ‘শুধু এই ছয় খুনই নয়, সম্রাট আরও কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তদন্ত চলছে। আশা করি, সব তথ্য বের হয়ে আসবে।’

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়