শিরোনাম
◈ সনের নেতৃত্বে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে মাঠে নামছে এশিয়ার দল দক্ষিণ কোরিয়া ◈ কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর হবে নতুন আন্তর্জাতিক গেটওয়ে ◈ অর্থের উৎস নিয়ে বিতর্ক, স্থগিত ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রামমূর্তি নির্মাণ ◈ তৃতীয় ভাষা শিখলে মিলবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ ◈ নতুন বাজেটে কোন ব্র্যান্ডের সিগারেটের দাম কত? ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা ◈ দিল্লির শীর্ষ বৈঠকেও ‘পুশ-ইন’ সংকটের সমাধান মিলল না ◈ ভাইকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সেই বৃদ্ধ ষষ্ঠী বর্মন, ভারতে গেলেন যেভাবে ◈ মাথায় ব‌লের আঘাত, হাসপাতালে মে‌হে‌দি মিরাজ ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন

প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৬, ১২:৫৯ দুপুর
আপডেট : ১০ জুন, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তনুর পোশাকে চার পুরুষের ডিএনএ, তদন্তে নতুন গতি পেল পিবিআই

দশ বছর পর আবারও আলোচনায় এসেছে কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা। সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্তে নতুন গতি এসেছে। তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা চার পুরুষের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

পিবিআই জানিয়েছে, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন সাবেক সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান, সৈনিক শাহিন আলম ও জাহিদুল ইসলামকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসে টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু।

অনেক খোঁজাখুঁজির পর সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস এলাকার জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। পরদিন তার বাবা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

সেনানিবাসের ভেতরে এমন ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হলেও দীর্ঘদিনেও হত্যার রহস্যের কোনো কূলকিনারা হয়নি। এমনকি দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণও নির্ধারণ করা যায়নি বলে জানানো হয়। প্রথমে থানা পুলিশ, পরে ডিবি ও সিআইডি তদন্ত করলেও ২০২০ সাল থেকে মামলাটির তদন্ত করছে পিবিআই। এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ডিএনএ রিপোর্ট। তনুর পোশাক থেকে নেয়া নমুনা পরীক্ষায় চারজন পুরুষের ডিএনএর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব নেয়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে কাজ শুরু হয়।

তদন্তে সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান, সাবেক সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান, সৈনিক শাহিন আলম ও জাহিদুল ইসলামকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে অভিযান শুরু করে পিবিআই। কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. কাইমুল হক রিংকু বলেন, চারজন পুরুষের সম্পূর্ণ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। সন্দেহভাজনদের মধ্যে জাহিদুজ্জামান ও শাহিন আলমকে খুঁজছে পুলিশ। গত ২১ এপ্রিল মামলায় প্রথম বড় অগ্রগতি আসে।

জড়িত থাকার সন্দেহে কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয় সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে। জানা গেছে, তনুর সঙ্গে হাফিজুরের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। বিভিন্ন কনসার্টে তিনিই তনুকে নিয়ে যেতেন। তবে হাফিজুরের আয়োজিত সর্বশেষ কনসার্টে তনু উপস্থিত ছিলেন না। সেই ক্ষোভ থেকে তিনি এ ঘটনায় জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পিবিআই। মো. কাইমুল হক রিংকু বলেন, রিমান্ডে হাফিজুর বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কথা বলছেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখছে পিবিআই। আশা করা যায়, খুব দ্রুতই বাকি জড়িতদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

এদিকে তনুর পোশাক থেকে পাওয়া নমুনার সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া হাফিজুর রহমানের ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য তাকে ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে নিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের আশা, এই প্রতিবেদন হাতে পেলে মামলার তদন্তে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে। এ ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনার দাবি তনুর বাবার। তিনি বলেন, যারা আমার মেয়েকে হত্যা করেছে, আল্লাহ তাদের বিচার করবে। অন্যায় কেউ করে পার পাবে না। একদিন সবাই ধরা পড়বে। আমি অপরাধীদের ফাঁসি চাই।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়