শিরোনাম
◈ সনের নেতৃত্বে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে মাঠে নামছে এশিয়ার দল দক্ষিণ কোরিয়া ◈ কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর হবে নতুন আন্তর্জাতিক গেটওয়ে ◈ অর্থের উৎস নিয়ে বিতর্ক, স্থগিত ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রামমূর্তি নির্মাণ ◈ তৃতীয় ভাষা শিখলে মিলবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ ◈ নতুন বাজেটে কোন ব্র্যান্ডের সিগারেটের দাম কত? ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা ◈ দিল্লির শীর্ষ বৈঠকেও ‘পুশ-ইন’ সংকটের সমাধান মিলল না ◈ ভাইকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সেই বৃদ্ধ ষষ্ঠী বর্মন, ভারতে গেলেন যেভাবে ◈ মাথায় ব‌লের আঘাত, হাসপাতালে মে‌হে‌দি মিরাজ ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন

প্রকাশিত : ২৭ মে, ২০২৬, ০৪:২৯ দুপুর
আপডেট : ০৮ জুন, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জাতীয় ঈদগাহে ছয় স্তরের নিরাপত্তা, ঢাকায় থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীতে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। জাতীয় ঈদগাহসহ মহানগরীর প্রায় এক হাজার ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তায় থাকবেন ১ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য। আর ঈদের দিন পুরো মহানগরীতে দায়িত্ব পালন করবেন ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য।

বুধবার (২৭ মে) জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ মহানগরীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা আংশিকভাবে ফাঁকা হয়ে পড়বে। এই সামগ্রিক প্রেক্ষাপট, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ একটি সমন্বিত প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, আগামীকাল ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসব উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সারাদেশের ন্যায় ঢাকা মহানগরীতেও পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ঈদের নামাজ আদায় করবেন।

জাতীয় ঈদগাহে মুসল্লিদের প্রবেশের জন্য মোট পাঁচটি গেট রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে চারটি পুরুষ এবং একটি নারী মুসল্লিদের জন্য নির্ধারিত। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে কেন্দ্র করে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকা এসবির সুইপিং টিম এবং সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড দ্বারা সুইপিং করা হচ্ছে এবং আরও করা হবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুরো ঈদগাহ এলাকা ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং ডিএমপির অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। ঈদগাহের সব প্রবেশপথে আর্চওয়ে, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ও ম্যানুয়াল তল্লাশি ব্যবস্থা থাকবে। ঈদগাহ ময়দানের চারপাশে পিকেটিং এবং লাইনিং ব্যবস্থা থাকবে।

তিনি জানান, জাতীয় ঈদগাহে প্রবেশের প্রধান তিনটি পয়েন্ট- মৎস্য ভবন ক্রসিং, প্রেস ক্লাবের সামনে এবং হাইকোর্ট ক্রসিংয়ে বিশেষ তল্লাশি ও ব্যারিকেড ব্যবস্থা থাকবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। ড্রোন মনিটরিংয়ের মাধ্যমে আকাশপথ থেকেও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

তিনি বলেন, ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি নিয়োজিত থাকবে। সোয়াট, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট স্ট্যান্ডবাই থাকবে। নারী মুসল্লিদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, পৃথক প্রবেশ গেট ও বিশেষ নিরাপত্তা রাখা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার টেন্ডার প্রস্তুত থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইমারজেন্সি মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে।

জাতীয় ঈদগাহের অভ্যন্তরে পুলিশ সাব-কন্ট্রোল রুম এবং লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। হারানো ও প্রাপ্তির তথ্য সেখানে সংরক্ষণ এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার করা হবে।

ঢাকার অন্যান্য ঈদ জামাতের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা মহানগরীর অন্যান্য ঈদগাহে সংশ্লিষ্ট ক্রাইম বিভাগকে আয়োজক কমিটির সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একটি জামাতও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে থাকবে না।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামীকাল সকাল ৬টা থেকে ঈদের নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় ঈদগাহ এবং আশপাশের এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কার্যকর থাকবে।

মুসল্লিদের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, সম্মানিত মুসল্লিরা পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে ঈদগাহে আসবেন এবং নিরাপত্তাজনিত তল্লাশিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে সহযোগিতা করবেন। গাড়িযোগে আগত মুসল্লিদের রোড ব্লক এলাকায় নেমে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে প্রবেশ এবং নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্কিং করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র জায়নামাজ এবং প্রয়োজনে ছাতা সঙ্গে নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের ব্যাগ, ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ বা অপ্রয়োজনীয় ধাতব বস্তু সঙ্গে না আনার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। জামাত শেষে তাড়াহুড়া না করে সুশৃঙ্খলভাবে বের হওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। সন্দেহজনক কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হয়ে যাওয়া বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক এলাকার নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, মোবাইল পেট্রোল, ফুট পেট্রোল ও মোটরসাইকেল পেট্রোল জোরদার করা হয়েছে। সিসিটিভির মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করা হচ্ছে। কমিউনিটি পুলিশিং এবং বিট পুলিশিং ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ব্যাংক, এটিএম বুথ, শপিং মল, মার্কেট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে। আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার নিরাপত্তাকর্মীদের ডিউটি তদারকি করা হচ্ছে। সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণা মোকাবিলায়ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ডিএমপি। কমিশনার বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিরোধে ডিএমপি সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। যে কোনো ধরনের গুজব, উসকানিমূলক প্রচারণা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

নিরাপত্তা হুমকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উসকানিমূলক বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা হতে পারে। যেমন সাইবার ফিল্ডে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালানো হতে পারে। এ ব্যাপারে আমরা সজাগ আছি। আমাদের সাইবার পেট্রোল টিম সার্বক্ষণিকভাবে নজরদারি করছে।

পুলিশ সদস্যদের ছুটির বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ইমারজেন্সি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ছুটি সীমিত রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ সদস্যকে ছুটিতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়