শিরোনাম
◈ সনের নেতৃত্বে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে মাঠে নামছে এশিয়ার দল দক্ষিণ কোরিয়া ◈ কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর হবে নতুন আন্তর্জাতিক গেটওয়ে ◈ অর্থের উৎস নিয়ে বিতর্ক, স্থগিত ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রামমূর্তি নির্মাণ ◈ তৃতীয় ভাষা শিখলে মিলবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ ◈ নতুন বাজেটে কোন ব্র্যান্ডের সিগারেটের দাম কত? ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা ◈ দিল্লির শীর্ষ বৈঠকেও ‘পুশ-ইন’ সংকটের সমাধান মিলল না ◈ ভাইকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সেই বৃদ্ধ ষষ্ঠী বর্মন, ভারতে গেলেন যেভাবে ◈ মাথায় ব‌লের আঘাত, হাসপাতালে মে‌হে‌দি মিরাজ ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন

প্রকাশিত : ২৯ মে, ২০২৬, ০৮:৩২ রাত
আপডেট : ১০ জুন, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এটিসি টাওয়ার চালুর পর নিরাপদ আকাশ, বেড়েছে রাজস্ব আয়

দীর্ঘ অপেক্ষার পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাপিত হয় নতুন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার (এটিসি)। সেই এটিসি টাওয়ার এখন আলো ছড়াচ্ছে। একদিকে যেমন দেশের আকাশ সুরক্ষিত হয়েছে তেমনি ফ্লাইং ওভার চার্জ আদায়ের গতিও বেড়েছে।

শাহাজালাল বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ) ফ্লাইং ওভার চার্জ বাবদ আদায় করা হয়েছিল ১৫৭ কোটি ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬০ টাকা। ২০২৫ সালে এসে এই আয় দাঁড়ায় ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ ১২ হাজার ৭৬১ টাকা। আর চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৯ কোটি ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ টাকা।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, “আমাদের নতুন এটিসি টাওয়ার চালুর পর থেকে আমাদের ফ্লাইং ওভার চার্জ আদায় বেড়েছে। এটি এই টাওয়ার স্থাপনের সফলতা। এর পাশাপাশি আমাদের পুরো দেশের আকাশসীমা শতভাগ নজরদারি স্থাপিত হয়েছে। ফলে আমাদের রাডার ফাঁকি দিয়ে কোনও ফ্লাইট দেশের আকাশে প্রবেশ করতে পারবে না। এটি আমাদের জন্য যুগান্তকারী একটি পদক্ষেপ।”

বহুল প্রতীক্ষিত অত্যাধুনিক এই রাডার সিস্টেম স্থাপনের কাজ শেষ হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। তারপর থেকেই মূলত অপারেশনে যায় এটিসি টাওয়ার। তবে, গত ২০ এপ্রিল এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।

ওভার ফ্লাইং চার্জ থেকে কত আয়

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ওভার ফ্লাইং চার্জ আদায় হয় ৫৩ কোটি ৫৯ লাখ সাত হাজার ৫৮০ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এই আয় বেড়েছে ১৪ কোটি ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ১৯৮ টাকা। আর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আদায় হয় ৮০ কোটি ১৬ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৬ টাকা। এর মানে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম মাসে বেশি আয় হয়েছে ২৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৮ হাজার ৬৮৬ টাকা।

একইভাবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদায় হয় ৪৭ কোটি ৪৩ লাভ ৯৭ হাজার ৮০ টাকা। এক বছর পর অর্থাৎ, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদায় বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৫৮ কোটি ২৯ লাখ ৭৯ হাজার ১১৩ টাকায়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদায় হয় ৬৯ কোটি ৫৮ লাখ ২৬ হাজার ২২৬ টাকা।

২০২৪ সালের মার্চে আদায় হয়েছিল ৫৬ কোটি ১২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। ২০২৫ সালের মার্চে আদায় ৫৮ কোটি ২৯ লাখ ৭৮ হাজার ৮৭০ টাকা এবং ২০২৬ সালের একই মাসে ৬২ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ১০৮ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৫ সালে এটিসি টাওয়ার চালু হওয়ার পর থেকে অবিশ্বাস্য গতিতে রাজস্ব আদায় হচ্ছে। এটি মূলত ফ্লাইটগুলোর বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারের চার্জ। আগে যেসব ফ্লাইট ট্র্যাক করা যেত না সেগুলোও এখন ট্র্যাকের আওতায় এসেছে। এর ফলে রাজস্ব আদায় বেড়েছে।

বেবিচকের মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ বলেন, “এটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন টাওয়ার, যা দ্বারা ফ্লাইট নিরাপদে ওঠা-নামার পাশাপাশি পুরো দেশের আকাশসীমা নজরদারির আওতায় এসেছে। দেশের আকাশসীমায় প্রবেশকারী কোনও ফ্লাইট নজরদারির বাইরে থাকবে না।”

আগে যে রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থাটি ছিল সেটি অনেক পুরোনো। ওই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের পুরো আকাশসীমা নজরদারির আওতায় আসতো না, বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরের অংশ। এতে আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশ। কারণ নিয়ম অনুযায়ী, অন্য কোনও দেশের উড়োজাহাজ বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফি নেওয়ার বিধান আছে। আকাশসীমা একবার ব্যবহারের জন্য ‘ফ্লাইং ওভার চার্জ’ নামের এই ফি পেতো না বাংলাদেশ। কিন্তু, বর্তমানে এই ফি পাওয়া যাচ্ছে।

এটিসি টাওয়ারের নজরদারি

এস-ব্যান্ড প্রাইমারি রাডারটি ৮০ নটিক্যাল মাইল কভারেজ দেবে। আর মোড-এস সেকেন্ডারি সার্ভেল্যান্স রাডারটি ২০০ নটিক্যাল মাইল কভারেজ দেবে।

বেবিচকের কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রকল্পটি বঙ্গোপসাগর অঞ্চলসহ সমগ্র বাংলাদেশের আকাশসীমা নজরদারি ও যোগাযোগ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এটি কলকাতা ও ইয়াঙ্গুনের সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস ইন্টার-ফ্যাসিলিটি ডেটা কমিউনিকেশন বাস্তবায়নের পথও খুলে দিয়েছে। এই অঞ্চলে একটি নিরবচ্ছিন্ন আকাশ প্রতিষ্ঠার জন্য এই এআইডিসি ছিল অত্যন্ত প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, এই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের জন্য রিয়েল-টাইম তথ্যপ্রাপ্তি, উন্নত মনিটরিং, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট আরও সহজ ও কার্যকর হয়েছে। এর ফলে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, ফ্লাইট পরিচালনা আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং আকাশসীমার ব্যবহার আরও দক্ষতার সঙ্গে করা সম্ভব হচ্ছে।

যেভাবে স্থাপতি হলো এটিসি টাওয়ার

২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ফ্রান্স দূতাবাস থেকে তাদের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি থ্যালেস রাডার ও এটিএম-সিএনএস (কমিউনিকেশন, নেভিগেশন ও সার্ভিল্যান্স-এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) সিস্টেম এবং এটিসি টাওয়ার ও এটিএম পরিচালনা কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। দেশে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নিরাপত্তা মান নিশ্চিতের লক্ষ্যে ২০১৯ সালের ৮ মে অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ) জি-টু-জি পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব অনুমোদন করে।

পরবর্তী সময়ে সরকার একটি জি-টু-জি কমিটি এবং একটি কারিগরি উপকমিটি গঠন করে। কারিগরি প্রস্তাবের বিষয়ে আইসিএও’র মতামত নেওয়া হয়। ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জি-টু-জি কমিটি কারিগরি প্রস্তাবটি গ্রহণ করে। ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর আর্থিক প্রস্তাব উন্মুক্ত করা হয়। ওই বছরের ৩ নভেম্বর প্রকল্পটি নিয়ে ফ্রান্স ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয় এবং ১৪ ডিসেম্বর আর্থিক উপ কমিটি আর্থিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেয়।

২০২০ সালের ২২ থেকে ২৪ তারিখে একটি আর্থিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, পরবর্তীকালে অনলাইনে আর্থিক প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি প্রস্তাবটির অনুমোদন দেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নের পরিবর্তে সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০২১ সালের ৩১ মার্চ সিসিইএ’র সভায় প্রকল্পটি সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়।

জি-টু-জি ভিত্তিতে বাস্তবায়িত এটিএম-সিএনএস সিস্টেমের এই প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ৭৩০ কোটি এবং এটি সিএএবি দ্বারা অর্থায়ন করা হয়েছে। তবে, পরবর্তীকালে বিভিন্ন কারণে ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৪২ কোটি।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়