শিরোনাম
◈ উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন, ভালো চাকরির ফাঁদে বিদেশে গিয়ে সাইবার স্ক্যামে বাধ্য, দেশে ফিরলেন ৩৭ বাংলাদেশি ◈ জুনের প্রথম ১০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১২০ কোটি ৩১ লাখ মার্কিন ডলার ◈ দক্ষিণ আফ্রিকায় ঢুকতে গিয়ে বিপাকে ৯ বাংলাদেশি, মিলল ভুয়া পাসপোর্ট-ভিসার প্রমাণ ◈ বিশ্বকাপে দ‌ক্ষিণ কো‌রিয়ার দারুণ সূচনা ◈ আদ্-দ্বীনের হাসপাতাল নয়, বাতিল হয়েছে প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স: দাবি আইনজীবী শিশির মনিরের ◈ স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস ও হামে শিশুমৃত্যুর জন্য ড. ইউনূসের বিচার চাইলেন শেখ হাসিনা ◈ ‌বিশ্বকা‌পে ব্রাজিল বনাম মর‌ক্কো ম্যাচের রেফা‌রি দেহব্যবসায় জড়িত মামলার আসা‌মি স্লাভকো ভিনচিচ ◈ আ‌মে‌রিকার বিরু‌দ্ধে যুদ্ধ ব‌ন্ধে ইরান এখন পর্যন্ত চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়‌নি ◈ ফুটবল বিশ্বকাপের মধ্যেই আজ থে‌কে শুরু হ‌চ্ছে আরো এক বিশ্বকাপ ◈ দিদি আমার পাশে ছিলেন, আমিও তার পাশেই থাকব, কখনোই দিদিকে ছেড়ে যাব না: মমতার পাশে শত্রুঘ্ন সিনহা

প্রকাশিত : ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৭:১১ বিকাল
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : মহসিন কবির

তারেক রহমানকে পেয়ে উজ্জীবিত বিএনপি, নানা পরিকল্পনা

মহসিন কবির: দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে পেলে পেয়ে উজ্জীবিত হয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এবার নির্বাচনে জিততে নানা পরিকল্পনা করছেন। 

তারেক রহমানের ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছে সব দল। নির্বাচন নিয়ে সংশয়-সন্দেহ দূর হয়েছে। তারেক রহমানের বক্তব্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারেক রহমান দেশে স্থির হলে নির্বাচনের জেতার পরিকল্পনা করবেন। দলে মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবেন। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে তারেক রহমান সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়েছেন তা শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, এটি বিএনপির রাজনীতিতে কৌশলগত রূপান্তরের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। ভাষা, টোন, বিষয়বস্তু, লক্ষ্য—সব মিলিয়ে এই বক্তব্যে একটি সচেতন ও পরিকল্পিত পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য কিংবা প্রতিশোধমূলক রাজনৈতিক ভাষা এড়িয়ে তিনি এমন সব কথা বেছে নিয়েছেন, যা রাষ্ট্র পরিচালনার উপযোগী ও ভবিষ্যত্মুখী।

এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, তারেক রহমান শুধু দলীয় নেতা হিসেবে নন, নিজেকে জাতীয় নেতৃত্বের ভূমিকায় প্রস্তুত করছেন। ‘বাংলাদেশ বিনির্মাণ’-এর পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে তিনি শুধু ভবিষ্যৎ নয়, দেশের গত ৫৪ বছরের রাজনৈতিক ও সামাজিক চড়াই-উত্রাইয়ের একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতাও তুলে ধরেন। তিনি তাঁর ভাষণে তরুণ নেতৃত্ব ও তরুণ প্রজন্মের প্রতি বারবার গুরুত্ব আরোপ করে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের একটি রূপরেখা তুলে ধরেন। এটি কেবল রাজনৈতিক আশ্বাস নয় বরং একটি প্রজন্মগত রূপান্তরের ডাক।

তারেক রহমানের ভাষণে বিএনপির রাজনীতিতে কেবল বক্তব্যের পরিবর্তন নয়; এটি কৌশল, দৃষ্টিভঙ্গি ও লক্ষ্য নির্ধারণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত। সংঘাত থেকে ঐক্য, প্রতিশোধ থেকে পুনর্গঠন, দলীয় রাজনীতি থেকে রাষ্ট্রচিন্তা তারেক রহমানের বক্তব্যের মূল বার্তা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে বড় ধরনের এক ‘চমক’ উপহার দিলেন  তারেক রহমান। গণসংবর্ধনা মঞ্চে তার প্রথম বক্তব্যের চমক-‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’।

এ কথা বলার আগে তিনি বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামী কিংবদন্তি নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের ঐতিহাসিক সেই উক্তি উচ্চারণ করে বলেন, তিনি বলেছিলেন- ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’। আর আজ আমি আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে বলছি, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এমন বক্তব্য শোনার পর সবার মধ্যে বিশেষ কৌতূহল ও চাঞ্চল্য দেখা যায়। তারেক রহমানের নতুন এ বার্তা নেতাকর্মীদের তাৎক্ষণিকভাবে আরও বেশি উজ্জীবিত করে তোলে। এমন বক্তব্য শোনার পর অনেকেই ধারণা করছেন, তিনি সত্যিই দেশ ও দেশের জনগণের উন্নয়নে বিশেষ কিছু করতে চান।

এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান তার ভাষণে বলেন, ‘আমরা দেশের শান্তি চাই। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসাবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই, আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান, ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি। আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে।’

দীর্ঘ সময় সুদূর যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত থাকলেও দলীয় সিদ্ধান্ত, কৌশলগত পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক নির্দেশনায় এখন তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় চালিকাশক্তি। দলটির শীর্ষস্থানীয় থেকে কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন তারেক রহমান। তার রাজনৈতিক চরিত্রের মধ্যে দলের কর্মী-সমর্থকেরা খুঁজে পাচ্ছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে। নেতাকর্মীরা বলছেন, একজন নেতার নেতৃত্বের মূল শক্তি থাকে তার ন্যায়বোধ আর মানসিকতায়। তার আদর্শের মহিমায়। তারেক রহমান তেমনই একজন নেতা; যিনি দূর থেকেও ছিলেন সবচেয়ে কাছে।

সামপ্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি ও জামায়াত নির্বাচনে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের উপস্থিতি বিএনপি’র জন্য বাড়তি সুবিধা আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 অধ্যাপক শাহান বলেন, তার উপস্থিতি দলীয় কর্মীদের উজ্জীবিত করবে এবং সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের বিএনপি’র দিকে টানবে। তিনি ভালোভাবে পারফর্ম করলে বিএনপি’র জন্য বড় জয় আসবে। এমনকি ‘ওয়েভ ইলেকশন’ও হতে পারে। তবে এর জন্য তারেক রহমানকে জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, আশ্বাস দেয়া এবং সংস্কার ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের একটি স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরতে হবে বলেই মত বিশ্লেষকদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে এসেছেন। এই ১৭ বছরে তাঁর মধ্যে আমরা অনেক পরিবর্তন লক্ষ করেছি। পরিপক্বতা লক্ষ করেছি। আত্মসমালোচনার জায়গাও তিনি খোলা রেখেছেন। দীর্ঘদিন তিনি লন্ডন থেকে দল চালিয়েছেন, এখন তিনি মাঠে আসায় তাঁর দল আরো শক্তিশালী হবে।

তারেক রহমানের বক্তব্য ইতিবাচক। তিনি সবাইকে নিয়ে চলতে চান। তিনি তরুণদের কথা বলেছেন। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যদি তাঁর দল ক্ষমতায় যায়, তখন তিনি আজকের এই কথাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবেন কি না সেটাই হলো বিবেচ্য বিষয়। তবে তিনি যদি চাটুকার, তেলবাজদের পরিহার করে নিজের মতো সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তিনি সফলতার দিকে এগিয়ে যাবেন।’

জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহিরউদ্দিন স্বপন গণমাধ্যমকে বলেছেন, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ভাষণ জাতিকে আশান্বিত করেছে। গণঅভ্যুত্থানের দেড় বছরের মাথায় ‘মব’ আক্রমণসহ অপরাধমূলক নানা কর্মকাণ্ডে দেশের মানুষের মধ্যে যখন অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, তখন তিনি আশার আলো দেখিয়েছেন। ভাষণে তিনি কাউকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাননি।

কাউকে কথার বাণে আক্রমণ করেননি। তিনি দেশ গঠনে তাঁর পরিকল্পনার কথা বলেছেন। পুরোনো দিনের ধ্যান-ধারণাকে ফেলে দিয়ে উন্নত মানসিকতার কথা বলেছেন। সর্বক্ষেত্রে তিনি এটা চালু করার দিকটাকেই পরিকল্পনা হিসেবে বলেছেন। রাজনীতি, অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, আইনশৃঙ্খলাসহ সবকিছুকেই উন্নত ধারায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা বলেছেন। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেছেন, তারেক রহমান পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছেন। এখন মানুষের প্রত্যাশা তৈরি হলো। তাঁর সামনে একটা চ্যালেঞ্জ তৈরি হলো। তিনি একটা দলের প্রধান থেকে জাতীয় নেতা হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই রূপান্তরটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

ইতোমধ্যে দেশ গড়ার কর্মসূচি দিয়েছেন।  স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারী, কৃষক, কর্মসংস্থান, ক্রীড়া, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মের প্রধান, জলবায়ু ও কৃষি, দুর্নীতি ইত্যাদি বিষয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা করছেন।

নারী: দেশের নারীদের নিয়ে বিএনপির মূল পরিকল্পনা কী, তাঁদের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি উন্নয়নে দলটি কী ধরনের কাজ করতে চায়, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা তারা দিয়েছে, সেটি হলো ‘ফ্যামিলি কার্ড’। এই ফ্যামিলি কার্ড পরিবারের নারীপ্রধানকে ইস্যু করার মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়িত এবং স্বাবলম্বী করার প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়। প্রান্তিক নারীদের জন্য এটি বড় ধরনের অবদান রাখবে বলে মনে হয়। কারণ, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা অথবা খাদ্যসুবিধা প্রদান করা হবে।

স্বাস্থ্য: মানুষ যেন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পায়, দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা পায়, তার একটা গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক লিফলেটে। নতুন এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা যেমন দেওয়া হয়েছে, তেমনি ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে সেবার মানোন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সম্পূর্ণ নতুন যে উদ্যোগ বিএনপি নিতে চায়, তা হলো মরণঘাতী ও সংকটপূর্ণ রোগগুলোর চিকিৎসা যেন সাধারণ মানুষ দ্রুত পেতে পারে, তার জন্য পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ করা।

দেখা যায়, ক্যানসারের রোগীদের সরকারি হাসপাতালগুলোতে কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপির সিরিয়াল পেতে অনেক দেরি হয়। আবার অনেক সরকারি হাসপাতালে মেশিন নষ্ট থাকে। ভুক্তভোগী সেসব রোগীকে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য সরকার থেকেই প্রাইভেট হাসপাতালে পার্টনারশিপের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে গ্রহণ করবে। অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা করা হবে। বিনা মূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ওষুধ, স্বল্পমূল্যে ক্যানসার, স্ট্রোক, ডায়াবেটিসসহ প্রাণঘাতী রোগের ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা করা এবং সর্বোপরি বিজ্ঞানভিত্তিক মশা নিধন ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

কৃষি: কৃষকদের জন্য বিশেষ ধরনের প্রণোদনা প্রায় সব সরকারের সময়ই কমবেশি দেওয়া হয়। কিন্তু কৃষকদের জন্য সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড ‘কৃষক কার্ড’–এর ব্যবস্থার উদ্যোগ হবে এই প্রথম। এই কৃষক কার্ডে নানা ধরনের সরকারি সুবিধার তথ্য লিপিবদ্ধ থাকবে, যাতে কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্যে পড়তে না হয়। ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক পাওয়া থেকে শুরু করে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের প্রাপ্য মূল্য নিশ্চিত করা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ নিশ্চিত করা, কৃষিবিমার সুবিধা ইত্যাদি বিষয়গুলো এই কার্ডের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। তা ছাড়া মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজারের আপডেটেড তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে। ফসলের চিকিৎসাসুবিধাও ডিজিটালাইজড করা হবে। মাছচাষি ও প্রাণিসম্পদ খামারিরাও এই কার্ডের আওতায় থাকবেন।

কর্মসংস্থান: বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণ এখন কর্মসংস্থানের বাইরে। বিএনপি তাদের পরিকল্পনায় কর্মসংস্থানকে বড় ধরনের গুরুত্ব দিয়েছে। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য পেপ্যালসহ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে চালু করা; তরুণ প্রজন্মের জন্য দেশব্যাপী ও ক্যাম্পাসভিত্তিক উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রতিযোগিতার আয়োজন, বিজয়ীদের স্টার্টআপ ফান্ড, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান; কর্মসংস্থান সহজ করার বিনিয়োগ নীতি গ্রহণ, দেশি–বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো; গ্রামের শিক্ষাহীন, গৃহিণী, প্রবীণ ও দীর্ঘমেয়াদি বেকারদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসংস্থান প্রোগ্রাম চালু করা, মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ ইত্যাদি বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার আশু কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বিএনপি।

শিক্ষা: ‘আনন্দময় শিক্ষা, দক্ষ জনশক্তি ও আধুনিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার উদ্যোগের কথা বলা আছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব; বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য ও খাদ্যে অগ্রাধিকার দেওয়া, ক্যাডার ও নন–ক্যাডার শিক্ষকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থাকে শিক্ষার্থীবান্ধব ও শিক্ষকবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়াস পরিলক্ষিত হচ্ছে বিএনপির উদ্যোগগুলোতে।

জলবায়ু ও পরিবেশ: বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বিএনপি এই খাল খনন কর্মসূচি আবার ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। তাদের অগ্রাধিকার অনুযায়ী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী পুনঃখনন করে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। তিস্তা ব্যারাজ উন্নয়ন ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। দূষণমুক্ত বাতাসের জন্য পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জ্বালানি ও জৈব সার উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্জ্য রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পরিবেশকে দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ক্রীড়া: চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিএনপি নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গানে ট্যালেন্ট হান্ট শুরু করেছিল। এবারে তারা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে ১২ থেকে ১৪ বছরের প্রতিভাবান ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করার উদ্যোগ নেবে। ৬৪ জেলায় ইনডোর সুবিধাসম্পন্ন স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা, প্রতিটি বিভাগীয় শহরে বিকেএসপির শাখা প্রতিষ্ঠা, সব মহানগরসহ দেশের গ্রামীণ জনপদে খেলার মাঠের সুব্যবস্থা করা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও সুবিধাবঞ্চিতদের খেলার সুযোগ নিশ্চিত করা, দেশের সব উপজেলায় ক্রীড়া অফিসার ও ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ করা ইত্যাদি বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াশিল্পকে অনন্য উচ্চতায় নেওয়ার প্রয়াস পরিলক্ষিত হয়।

খতিব ইমাম মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মের প্রধান: প্রথমবারের মতো খতিব, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। ধর্মীয় উৎসবে বিশেষ ভাতা প্রদান, দক্ষতা-উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খতিব, ইমাম-মুয়াজ্জিনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বৃদ্ধির উদ্যোগের কথা বলা আছে। অন্যান্য ধর্মের (হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও অন্যান্য) উপাসনালয়ের মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতা প্রদান এবং সব সুবিধা সমানভাবে নিশ্চিত করা হবে।

বিএনপি এই আটটি লিফলেটে তাদের কিছু ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি জনগণের কাছে উপস্থাপন করতে চায়, যা সহজেই বোধগম্য ও উপস্থাপনযোগ্য। রাজনৈতিক দল তাদের জনমুখী কর্মসূচিগুলো জনপরিসরে কতটা প্রচার করতে পেরেছে তার ওপর তাদের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করে এবং নির্বাচন জয়লাভও অনেকটা জনবান্ধব কর্মসূচির ওপরই নির্ভরশীল। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ স্বাস্থ্যব্যবস্থা—সবই বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নতুন সংযোজন। এ কর্মসূচিগুলোর সঠিক প্রয়োগ ও সফলতা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বহুলাংশে বদলে দেবে বলে বিশ্বাস করি।

বিএনপির এ নতুন ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা শুধু প্রচারণাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। জনগণের প্রতি দেওয়া বিএনপির এ প্রতিশ্রুতিগুলো ভবিষ্যতে নির্বাচিত হতে পারলে দল হিসেবে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে সম্পাদন করবে এবং জনকল্যাণমুখী কর্মসূচিগুলো অব্যাহত রাখবে—এই প্রত্যাশা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়