শিরোনাম
◈ নিখোঁজের রহস্যের অবসান, লাকসাম স্টেশনে আহত অবস্থায় খোঁজ মিলল জিসানের ◈ বিশ্বকাপের মঞ্চে সিআইএর গোপন অপারেশন? ইংল্যান্ডের গোলরক্ষককে বিষপ্রয়োগের দাবি ◈ গ্যাস-তেল অনুসন্ধানে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে সরকার, ৬৯টি কূপ খনন করবে বাপেক্স ◈ অনিশ্চয়তায় প‌ড়ে‌ছে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভর্তি রোগীরা, লাইসেন্স বাতিল ঘিরে বিতর্ক ◈ সীমান্তে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণে পুনরায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ-ভারত ◈ ‘সুপার’ এল নিনোর আনুষ্ঠানিক আগমন, পরিস্থিতি দ্রুতই ভয়ংকর হতে পারে: বিজ্ঞানীরা ◈ কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে না, আমাদের উন্নয়নে চীন সহযোগিতা করছে: মির্জা ফখরুল ◈ বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়েছে: অর্থমন্ত্রী ◈ করের ক্ষেত্রে যে আটটি পরিবর্তন আসছে ◈ "ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা ট্রাম্পের, সামরিক অভিযান থেকে সরে এসে বললেন, চুক্তি ‘প্রায় চূড়ান্ত’, ইউরোপে সই হবে"

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৪১ বিকাল
আপডেট : ১২ জুন, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাজনীতিতে যোগদানের বিষয়ে যা বললেন মীর স্নিগ্ধ

গুঞ্জনের মুখে এবার মুখ খুললেন জুলাই শহীদ মীর মুগ্ধের ভাই মীর স্নিগ্ধ। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কারণ জানিয়েছেন তিনি। রোববার (২৫ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।

ফেসবুক পোস্টে মীর স্নিগ্ধ লেখেন

‘ভাই ব্যবসায়ী’ এই টার্মটা আসলে কীভাবে জাস্টিফাই হয়?

নিজের একটা সাজানো–গোছানো জীবন ছিল। আলহামদুলিল্লাহ, কোনো কিছুর অভাব ছিল না। একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিলাম। ছাত্রজীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ থেকে শুরু করে হাতখরচ, নিজের শখ–আহ্লাদ, সবই আলহামদুলিল্লাহ নিজের উপার্জিত টাকায় পূরণ করেছি। নিজের বাইকসহ জীবনের অনেক স্বপ্নই নিজের টাকায় বাস্তবায়ন করেছি।

এরপর এলো জুলাই ২০২৪। নিজের ভাইকে হারালাম।

শত হুমকির পরও ‘মুগ্ধর পানি লাগবে’ ভিডিওটি প্রকাশ করে পুরো বিশ্ববাসীর কাছে বিচারের দাবি জানাই, যা জুলাই আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট ছিল। বিচারের আশায় বড় ভাইসহ কোর্ট, থানা, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে পায়ের চপ্পল ক্ষয়ে গেছে। ব্যাংক, অফিস—সব জায়গায় নিজে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজসহ মুগ্ধর হত্যার সব প্রমাণ সংগ্রহ করেছি।

দেশের বাইরে পড়াশোনা করে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ ছেড়ে দিয়ে, মুগ্ধর মতো আরও যারা শহীদ হয়েছেন এবং জুলাইয়ে আহত হয়েছেন, তাদের জন্য কাজ করতে বিনা পারিশ্রমিকে জুলাই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত হই। আমি একা ছিলাম না, ছাত্র উপদেষ্টা থেকে শুরু করে জুলাই আন্দোলনের আরও পরিচিত মুখ এ ফাউন্ডেশনে যুক্ত ছিলেন। সবাই মিলে সর্বোচ্চ সততার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেছি।

আজও মনে পড়ে, পাবলিক বাসে ধাক্কা খেতে খেতে এক মন্ত্রণালয় থেকে আরেক মন্ত্রণালয়ে ঘুরে ফাউন্ডেশনটাকে দাঁড় করিয়েছি। এ সময়ে ফ্রিল্যান্সিং থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি, ফলে আমার ক্যারিয়ার প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকে।

তবুও হাল ছাড়িনি। ভাইয়ের হত্যার বিচারের জন্য এখান থেকে সেখান, লড়াই এখনো চলছে। কিন্তু যখন বুঝলাম, এইভাবে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব নয়, তখন রাজনৈতিকভাবে বিচার নিশ্চিত করার জন্য রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। মাত্র ২০ টাকার একটি ফর্ম পূরণ করে যুক্ত হই, এই আশায় যে বিচার নিয়ে রাজনৈতিকভাবে কাজ করতে পারব।

এখন বলুন, আমি কীভাবে ‘ভাই ব্যবসা’ করলাম?

এ দেশে কেউ দায়িত্ব পালন করলে সে সৎভাবেও দায়িত্ব পালন করতে পারে, এই বিশ্বাসটা আমরা কেন রাখতে পারি না?

কোনো প্রমাণ ছাড়াই কীভাবে আমরা কাউকে অসৎ ট্যাগ দিয়ে দিই?

তাহলে কি আপনাদের মতে, এসব না করে ভাই হত্যার বিচারের জন্য কাজ না করে নিজের নিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকেই চলে যাওয়াই আমার জন্য শ্রেয় ছিল?

প্রশ্ন রেখে গেলাম, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া মানেই কী সে ব্যবসায়ী?

রাজনীতি তো কোনো ব্যবসা নয়।

আর যারা রাজনীতিকে ব্যবসা বানিয়েছে—আপনারা কি তাদেরই বারবার জিতিয়ে দিচ্ছেন না?

সূত্র: যুগান্তর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়