শিরোনাম
◈ কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম  ◈ বাজেট ২০২৬–২৭: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ১০ অগ্রাধিকার ◈ পোলট্রি ও ফিশ ফিডে বিষাক্ত ট্যানারি বর্জ্য, বাড়ছে ক্যানসারসহ নানা রোগ, সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি! ◈ যে ছেলে একসময় টিফিনের টাকাও জোগাড় করতে পারত না, আজ দুবাইয়ে ২০ হাজার কোটির মালিক ◈ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা ◈ ভারতের সব কর্মীকে ছাঁটাই করল ওপেনডোর, কারণ দেখালো ‘গ্রাহকরা আমেরিকায়’ ◈ বেনাপোল বন্দরের শেড থেকে উধাও ৬ কোটি টাকার পণ্য, ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা ◈ বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাস: তাজউদ্দীন থেকে আমির খসরু, কে কত দিলেন? ◈ অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল বাংলাদেশের অর্থনীতি, নতুন রেকর্ড জিডিপিতে ◈ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের তথ্য দিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেল করতে চেয়েছিল এপস্টেইন: বিল গেটস

প্রকাশিত : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৯:৪৯ সকাল
আপডেট : ১১ জুন, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নিভে যাচ্ছে প্রকৃতির মায়াবী আলো, হারিয়ে যাচ্ছে জোনাকি

‘ঝুমকো লতায় জোনাকি—/ মাঝে মাঝে বৃষ্টি গো/ আবল তাবল বকে কে/ তারও চেয়ে মিষ্টি গো, মিষ্টি গো।’— জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘ঝুমকো লতায় জোনাকি’ কবিতার এই মুগ্ধকর পঙ্‌ক্তিগুলোতেই ফুটে উঠেছে জোনাকি পোকার সৌন্দর্য ও মায়াবী উপস্থিতি। একসময় গোধূলি পেরিয়ে রাত নামলেই ঝোপঝাড়, বাঁশবাগান আর মাঠের আইলজুড়ে জ্বলে উঠত অসংখ্য জোনাকির মিটিমিটি আলো। মনে হতো, আকাশের তারারা বুঝি নেমে এসেছে মাটির বুকে। শৈশবের সেই বিস্ময়, কৌতূহল আর মুগ্ধতার সঙ্গী ছিল ছোট্ট এই আলোকবাহী পোকা। অন্ধকার রাতে প্রকৃতির বুকে নিজস্ব আলো ছড়িয়ে জোনাকি যেন নিঃশব্দে লিখে যেত সৌন্দর্যের এক অপূর্ব গল্প। কিন্তু সময়ের পালাবদলে সেই গল্প আজ ফিকে হতে বসেছে; যে জোনাকি একদিন রাতের প্রকৃতিকে সাজিয়ে তুলত, এখন তাকে খুঁজে পাওয়াই যেন কঠিন হয়ে উঠছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীজুড়েই দ্রুত কমে যাচ্ছে জোনাকির সংখ্যা, আর এভাবে চলতে থাকলে একদিন হয়তো প্রকৃতি থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যাবে এই আলো ছড়ানো পতঙ্গ। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ এবং বিভিন্ন দেশের কীটতত্ত্ববিদদের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের তৈরি কৃত্রিম আলোর দূষণ, অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক বাসস্থান ধ্বংসের কারণে জোনাকি সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জোনাকির বেঁচে থাকা ও বংশবিস্তারের জন্য ভেজা মাটি, ঘন ঝোপঝাড় এবং বনাঞ্চল প্রয়োজন। কিন্তু দ্রুত নগরায়ণের ফলে এসব জায়গা প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে রাতের শহরে অতিরিক্ত কৃত্রিম আলো জোনাকির স্বাভাবিক জীবনচক্রে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। নিজেদের আলো ব্যবহার করে সঙ্গী খুঁজে নেওয়ার যে প্রক্রিয়া, কৃত্রিম আলোর কারণে সেটিই ব্যাহত হচ্ছে। ফলে তাদের বংশবিস্তারও কমে যাচ্ছে।

বাংলাদেশেও জোনাকির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং পরিবেশ দূষণের কারণে দেশের অধিকাংশ এলাকায় এখন আর আগের মতো জোনাকি দেখা যায় না। বর্তমানে চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের কিছু পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে সীমিত আকারে এদের অস্তিত্ব টিকে আছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, জোনাকি শুধু একটি সুন্দর পোকা নয়, এটি প্রকৃতির পরিবেশগত ভারসাম্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এদের রক্ষায় বনভূমি সংরক্ষণ, কৃত্রিম আলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং কীটনাশকের অপব্যবহার কমানো জরুরি।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ অনুযায়ী জোনাকিকে ইতোমধ্যে বিপন্নপ্রায় বন্যপ্রাণীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাই প্রকৃতির এই মায়াবী আলো চিরতরে নিভে যাওয়ার আগেই সচেতন হওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: আরটিভি

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়