শিরোনাম
◈ পোলট্রি ও ফিশ ফিডে বিষাক্ত ট্যানারি বর্জ্য, বাড়ছে ক্যানসারসহ নানা রোগ, সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি! ◈ যে ছেলে একসময় টিফিনের টাকাও জোগাড় করতে পারত না, আজ দুবাইয়ে ২০ হাজার কোটির মালিক ◈ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা ◈ ভারতের সব কর্মীকে ছাঁটাই করল ওপেনডোর, কারণ দেখালো ‘গ্রাহকরা আমেরিকায়’ ◈ বেনাপোল বন্দরের শেড থেকে উধাও ৬ কোটি টাকার পণ্য, ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা ◈ বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাস: তাজউদ্দীন থেকে আমির খসরু, কে কত দিলেন? ◈ অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল বাংলাদেশের অর্থনীতি, নতুন রেকর্ড জিডিপিতে ◈ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের তথ্য দিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেল করতে চেয়েছিল এপস্টেইন: বিল গেটস ◈ ব্রাজিলকে হালকাভাবে নিলে ভুগতে হবে, বিশ্বকাপে নামার আগে মিডফিল্ডার ব্রুনোর হুম‌কি ◈ পা‌কিস্তা‌নের সা‌বেক ক্রিকেটার বা‌সিত আ‌লি বল‌লেন, বাংলাদেশ এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা দল

প্রকাশিত : ১৯ মে, ২০২৬, ০৮:৫২ রাত
আপডেট : ০৮ জুন, ২০২৬, ১০:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পৃথিবীতে আসবে মহাকাশে তৈরি বিদ্যুৎ

মহাকাশে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করে সেখান থেকে পৃথিবী ও স্যাটেলাইটে বিদ্যুৎ পাঠানোর প্রযুক্তিতে বড় অগ্রগতির দাবি করেছে চীন। দেশটির বিজ্ঞানীরা বলছেন, তারবিহীন উপায়ে চলমান লক্ষ্যবস্তুতেও বিদ্যুৎ পাঠানোর পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল মিলেছে।

চীনের শায়ানসি প্রদেশের সিতিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ‘সান চেজিং’ বা ‘জুরি’ নামে একটি প্রকল্পের আওতায় তারবিহীন বিদ্যুৎ পরিবহনের নতুন ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। এই ব্যবস্থার বিশেষত্ব হলো, একই সময়ে একাধিক চলমান লক্ষ্যবস্তুতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।

সাম্প্রতিক পরীক্ষায় গবেষকেরা ১০০ মিটার দূরত্বে তার ছাড়াই বিদ্যুৎ পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন। পরীক্ষায় বিদ্যুৎ পরিবহনের দক্ষতা ছিল ২০ দশমিক ৮ শতাংশ। এতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৮০ ওয়াট শক্তি সরবরাহ করা গেছে।

শুধু স্থির যন্ত্র নয়, ড্রোনের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিটি পরীক্ষা করা হয়েছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে থাকা একটি ড্রোন ৩০ মিটার দূর থেকে স্থিতিশীলভাবে ১৪৩ ওয়াট বিদ্যুৎ গ্রহণ করতে পেরেছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে উড়ন্ত ড্রোন বা মহাকাশযানকে মাঝপথেই তারবিহীনভাবে চার্জ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

গবেষকদের পরিকল্পনায় থাকা মহাকাশ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হবে কক্ষপথে স্থাপিত বিশাল সৌরপ্যানেলের বহর। এসব প্যানেল সরাসরি সূর্যের আলো সংগ্রহ করবে। পরে সেই শক্তি মাইক্রোওয়েভ বা লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে পৃথিবী কিংবা মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটে পাঠানো হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় সীমাবদ্ধতা হলো দিন-রাত ও আবহাওয়ার প্রভাব। কিন্তু মহাকাশে থাকা সৌরপ্যানেল প্রায় সব সময়ই সূর্যের আলো পেতে পারে। ফলে সেখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ তুলনামূলক স্থিতিশীল হতে পারে।

‘জুরি’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। এরপর ২০২২ সালের জুনে গবেষক দল মহাকাশ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ভূমিভিত্তিক পরীক্ষামূলক যাচাই ব্যবস্থা সম্পন্ন করে। বর্তমানে প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে দীর্ঘ দূরত্বে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহনের প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ চলছে।

গবেষকদের ভাষ্য, ইতিমধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌরশক্তি সংগ্রহ ও রূপান্তরের দক্ষতা বাড়ানো, মাইক্রোওয়েভ বিম আরও নির্ভুলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং অ্যান্টেনাকে ছোট ও হালকা করা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি সফল হলে ভবিষ্যতে মহাকাশভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে। এতে শুধু পৃথিবীতেই নয়, চাঁদ বা মহাকাশ স্টেশনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ সহজ হতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘসময় আকাশে থাকা ড্রোন, যোগাযোগ স্যাটেলাইট ও মহাকাশযানের কার্যক্ষমতাও বাড়তে পারে।

তবে প্রযুক্তিটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বড় পরিসরে ব্যবহার শুরু করতে হলে বিদ্যুৎ পরিবহনের দক্ষতা, নিরাপত্তা ও ব্যয়ের মতো বিষয়গুলোতে আরও উন্নয়ন প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়