শিরোনাম
◈ ধর্ষণের ক্ষেত্রে দ্বিচারিতা চলতে পারে না, সব অপরাধেরই বিচার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ সরকারি ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী ◈ বি‌পিএলের দুরাবস্থা, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের র‍্যাঙ্কিংয়ে সবার নিচে  ◈ সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত, কোনটি কোথায় যাবে ◈ চীনা অর্থায়নে দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতুসহ ২০ মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা ◈ আধুনিক প্রযুক্তির লড়াইয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের রেকর্ড ভাঙল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ◈ ‘আমি মন্ত্রীর পিছে টাকা নিয়ে ঘুরিনি’: আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ◈ ব্রা‌জি‌লের বিরু‌দ্ধে মর‌ক্কো দ‌লের একাদশে ১১ জনই ছি‌লো জন্মসূত্রে বিদেশি, বিশ্বকাপে অনন্য কীর্তি ◈ অক্সফোর্ডে অনুষ্ঠান শেষে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের স্লোগান, পাল্টা হাসনাত আবদুল্লাহর ‘মিডল ফিঙ্গার’ প্রদর্শন ◈ রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে দ্রুত এআই ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:২০ রাত
আপডেট : ২৭ মে, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পদ্মার গভীর চরে প্রথম বাণিজ্যিক পেঁয়াজ চাষ, বাম্পার ফলনের আশা

ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধি: চাহিদা মেটাতে এবার রাজশাহীতে পদ্মা নদীর জেগে ওঠা চরে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে পতিত থাকা পদ্মার চরে ব্যাপক আকারে পেঁয়াজ আবাদ করে ইতোমধ্যে আশার আলো দেখছেন কৃষকরা। বিশেষ করে রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের নবগঙ্গা এলাকার চরে পেঁয়াজ চাষে এক ধরনের কৃষি বিপ্লব ঘটেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এর আগে এসব চরে প্রধানত মসুর ডাল, কালাই, গম, বাদামসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হতো। পদ্মার তীরবর্তী কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে পেঁয়াজ চাষ হলেও নদীর গভীরে জেগে ওঠা চরে কখনো বাণিজ্যিকভাবে পেঁয়াজ আবাদ হয়নি। তবে এবার সেই চিত্র বদলেছে। প্রথম বছরেই বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন চাষিরা। পদ্মার প্রায় দুই কিলোমিটার গভীরে জেগে ওঠা চরে প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন কৃষক ইউনুস ভুঁইয়া। লিজ নেওয়া জমিতে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে এ আবাদ শুরু করেন। শুরুতে শঙ্কা থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সেই শঙ্কা কেটে যায়। তিনি জানান, চরের মাটি পরীক্ষা করে এবং কৃষি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ পেঁয়াজ চাষিদের পরামর্শ নিয়েই আবাদ শুরু করা হয়। চারা রোপণের এক সপ্তাহের মধ্যেই গাছ সোজা হয়ে দাঁড়ায় এবং ১৫ দিনের মাথায় দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। বর্তমানে গাছের বৃদ্ধি দেখে তিনি আশাবাদী। ইউনুস ভুঁইয়া বলেন, “উঁচু জমিতে বিঘাপ্রতি ৭০ থেকে ৭৫ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। কিন্তু চরের গাছের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এখানে বিঘাপ্রতি প্রায় ১০০ মণের কাছাকাছি ফলন হতে পারে।”

পদ্মার চরের বালুমাটির কারণে সেচ কিছুটা বেশি দিতে হচ্ছে। এজন্য গভীর নলকূপ স্থাপন করে চায়না মেশিনের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে চরের পলিমাটির কারণে সার ও কীটনাশকের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম হচ্ছে বলে জানান চাষিরা। ইউনুস ভুঁইয়া আরও জানান, উৎপাদিত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে চাহিদা অনুযায়ী বাজারে সরবরাহ করা হবে। তার দাবি, এ পেঁয়াজ রাজশাহীর স্থানীয় চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে। একই চরে প্রায় অর্ধশত বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন হরিপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য বাবর আলী। তিনি বলেন, “আগে তীরবর্তী এলাকায় রসুন, পেঁয়াজ, বাদাম ও বিভিন্ন জাতের ডাল চাষ করতাম।

এবার প্রথমবার গভীর চরে পেঁয়াজ আবাদ করেছি। ইতোমধ্যে পেঁয়াজের আকার তৈরি হয়েছে। মনে হচ্ছে উঁচু জমির চেয়ে চরের পেঁয়াজ আকারে বড় এবং ফলনেও বেশি হবে।” তবে চলতি মৌসুমে পদ্মার চরে মোট কত হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই রাজশাহীর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের কাছে। এমনকি চরে চাষ হওয়া জমিগুলোর নিয়মিত তদারকিও করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। চাষিরা বলছেন, যথাযথ সরকারি তদারকি ও সহায়তা পেলে পদ্মার চরে পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ আরও সম্প্রসারণ সম্ভব।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়