শিরোনাম
◈ দিল্লিতে প্রবেশে বাধা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে, ফয়েজের ফেসবুক স্ট্যাটাস ◈ দেড় লাখ মানু‌ষের দেশ কুরাসাও বিশ্বকাপ খেল‌ছে, জার্মা‌নির বিরু‌দ্ধে গোলও ক‌রে‌ছে ◈ ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ◈ এবার ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের যে সুখবর দিলেন ভারপ্রাপ্ত এমডি! ◈ লন্ডন থেকে যাত্রাপথে দুবাইয়ে এআই ফেস রিকগনিশনে ধরা পড়লেন বেনজীর! শনাক্তকরণ নিয়ে চাঞ্চল্য ◈ দুবাইয়ে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে: দুদক ◈ জামায়াতের দুই নারী সদস্যকে নিয়ে মন্তব্য করায় আবারও উত্তপ্ত সংসদ (ভিডিও) ◈ নারী টি-‌টো‌য়ে‌ন্টি বিশ্বকাপে সুন্দর সূচনা বাংলাদেশের ◈ বিনিয়োগ আকর্ষণে দেশের পাঁচ জেলায় নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ার সিদ্ধান্ত ◈ বিশ্বকা‌পে জাপা‌নের প্রথম ম‌্যাচ নেদারল্যান্ডসের বিরু‌দ্ধে যে কো‌নো উপা‌য়ে জয় চান কোচ

প্রকাশিত : ১৫ মার্চ, ২০২৬, ০৫:১৪ বিকাল
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অপারেশনের আগেই ভুল ইনজেকশন, বরিশালে দুই রোগীর মৃত্যু

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) না নিয়ে ওয়ার্ডে বসে ইনজেকশন পুশ করায় দুই রোগী মারা গেছেন।

আজ রোববার (১৫ মার্চ) সকালে হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের মহিলা ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। তাঁদের দুজনেরই রোববার অস্ত্রোপচার (অপারেশন) হওয়ার কথা ছিল।

মারা যাওয়া রোগীরা হলেন হেলেনা বেগম (৪৮) ও শেফালি বেগম (৬০)। হেলেনা বরিশাল মহানগরের সারসী গ্রামের মৃত বাবুল হাওলাদারের স্ত্রী এবং শেফালি পটুয়াখালীর কলাপাড়া ইউনিয়নের মহিপুর থানাধীন ডাবলুগঞ্জ ইউনিয়নের মন্নান তালুকদারের স্ত্রী। শেফালি বেগম এক সপ্তাহ আগে আর হেলেনা বেগম তিন সপ্তাহ ধরে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

একজনের গালে সিস্ট (গালের চামড়ার নিচে তরলভর্তি ছোট থলি) ও অন্যজনের থাইরয়েডের বিষয়ে শরীরে অস্ত্রোপচার করার কথা ছিল চিকিৎসকদের। এ জন্য প্রস্তুতি হিসেবে তাঁদের শরীরে নার্সরা ইনজেকশন পুশ করেন। তবে তাতে ভুল করায় কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই দুই রোগীর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে আহাজারি বিরাজ করে এবং ক্ষোভ দেখা দেয়। এদিকে জড়িতদের বিরুদ্ধে চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শেবাচিম হাসপাতাল প্রশাসন।

মৃত দুই রোগীর স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন, শেফালি বেগমের গালে সিস্ট হয়েছিল আর হেলেনা বেগমের থাইরয়েডে সমস্যা ছিল। সকালে নার্সরা ইনজেকশন পুশ করার পরপরই দুজনই রোগীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার দাবি করেছেন তাঁরা।

জানা গেছে, হাসপাতালের নাক-কান-গলা ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে ৫ রমজান ভর্তি হন হেলেনা বেগম এবং ১৮ রমজান ভর্তি হন শেফালি বেগম। এর মধ্যে হেলেনা বেগম থাইরয়েড রোগে ভুগছিলেন এবং শেফালি বেগম মুখের ভেতর টিউমার অপসারণ করার জন্য ভর্তি হন। রোববার সকালে তাঁদের উভয়ের শরীরে অস্ত্রোপচারের জন্য কিছু ইনজেকশন পুশ করেন নার্সরা। এরপরই উভয়ের শরীরে কিছু সমস্যা দেখা দেয় এবং কিছু সময় পরে উভয়ের মৃত্যু হয়।

হেলেনা বেগমের ছেলে ইব্রাহিম বলেন, ‘নার্স ইনজেকশন পুশ করার পরই আমার সুস্থ মা অসুস্থ হয়ে যায় এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বিষয়টি আমরা হাসপাতাল প্রশাসনকে জানিয়েছি।’

অপর দিকে শেফালি বেগমের মেয়ে খাদিজা বেগম বলেন, ‘মা সুস্থ ছিলেন, কিন্তু সকালে নার্স এসে কয়েকটা ইনজেকশন দেওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি নার্সদের জানানো হলেও তারা কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি, সুস্থ করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়নি। চোখের সামনে সুস্থ মা অসুস্থ হয়ে মুহূর্তেই মারা গেল। আর মায়ের মৃত্যুর পরে নার্সদের টনক নড়ে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

অভিযুক্ত দুই সিনিয়র নার্স মলিনা রানী মণ্ডল ও হেলেন অধিকারী দাবি করেছেন, তাঁরা (নার্সরা) শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। রাতে ডিউটি করায় কী ইনজেকশন পুশ করেছেন বলতে পারবেন না। তবে এটা ভুল হয়েছে বলে জানান।

জানতে চাইলে হাসপাতালের উপপরিচালক এ কে এম নাজমুল আহসান বলেন, রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগে কিছু ওষুধ আছে এবং পরে অচেতন করার ইনজেকশন দিতে হয়। তবে এ ক্ষেত্রে ওটিতে (অপারেশন থিয়েটার) নেওয়ার আগেই অজ্ঞান করার ইনজেকশন দিয়েছে। এটা পেশাগত দায়িত্ব চরমভাবে অবহেলা করেছে।

এ ব্যাপারে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনির বলেন, ‘অপারেশনের আগে রোগীকে অ্যানেসথেসিয়া ড্রাগ দিতে হয়। এত রোগীর শরীরে কিছু পরিবর্তন ঘটে। এ জন্য মেশিনের সাহায্যে ইনজেকশন পুশ করাতে হয়। কিন্তু ওই ওষুধ নার্সরা রোগীদের অপারেশন থিয়েটারে না নিয়ে আগে ওয়ার্ডে বসে দিয়েছেন। ফলে কিছু সময় পর রোগীরা মারা যান। এটি অবশ্যই পেশাদারির জায়গা থেকে দায়িত্ব অবহেলা এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

মশিউল মুনির আরও বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা বিভাগীয় ব্যবস্থা নাওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানিয়েছি। সেই সঙ্গে রোগীর স্বজনেরা চাইলে মামলাও করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তাঁদের সহযোগিতাও করা হবে।’ উৎস: আজকের পত্রিকা।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়