শিরোনাম
◈ ৯৪ মিনিটে গোল, সুইসদের বিপক্ষে কাতারের অবিশ্বাস্য ড্র ◈ শান্তিচুক্তি সইয়ের সময়সূচি ঘোষণা ট্রাম্পের, ভিন্ন অবস্থানে ইরান ◈ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত হবে, লবণচাষীরা পাবেন ন্যায্যমূল্য ◈ বাংলাদেশকে স্বনির্ভর ও শিল্পোন্নত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: মির্জা ফখরুল ◈ ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশল: অর্থনীতির জন্য কতটা ইতিবাচক? ◈ ক্রিকেটার নাঈমের শারী‌রিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে চট্টগ্রামে গে‌লেন বিসিবির ফিজিওরা ◈ ব্রাজিলের এক‌টি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ মরক্কোর বিপক্ষে জয় চান না ◈ ইংল্যান্ড দ‌লের বল ও বুটসহ অ‌নেক অনুশীলন সরঞ্জাম চুরি ◈ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে একটি করে গাছ লাগান: প্রধানমন্ত্রী ◈ বিপ্লবের পর বাস্তবতার মুখে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা

প্রকাশিত : ০৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:১৭ রাত
আপডেট : ১৩ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘আমার স্বামীর মাথা কেটে ফুটবল খেলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে’

ফিরোজ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ‘আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করে তাঁর মাথা কাটে ফুটবল খেলিছিলো। সেই মামলার আসামিরা এখন দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ জামিন নিয়ে বাইরে আইছে। যাগের ফাঁসি আদেশ হইছিলো তারা নাকি ক্ষমা পেয়েছে। আমার সন্তানগের এতিম করা আসামিরা এখন বুক ফুলায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এসব দেখতি হচ্ছে আমাগের। এ আবার কেমন বিচার। আমি আল্লার কাছে বিচার দিছি। সেই সব বিচার করবে।’ এমন ক্ষোভের কথা বলছিলেন ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের নিহত আলফাজ উদ্দিনের স্ত্রী সম্পতি নেছা।

সম্পতি নেছা জানান, জমি ও পূর্ব শত্রুতার জেরে কুলবাড়িয়াা গ্রামের পূর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির সদস্য সার্জনের সাথে বিরোধ হয় তার স্বামী আলফাজের। সেই শত্রুতার জেরে ৯৯ সালের ৪ এপ্রিল রাতে পূর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা হানিফের নেতৃত্বে সার্জন, আব্দুল মালেক, শহিদুল ইসলাম ওরফে জেন, শের আলী, জুর আলী, বেল্টু ওরফে তোয়াসহ কয়েকজন আলফাজকে কুপিয়ে হত্যা করে। শুধু তাই নয় তাকে কুপিয়ে হত্যা করে দেহ থেকে মাথা ছিন্ন করে ফুটবল খেলে। সেই ঘটনায় আলফাজের বাবা আনজেল আলী বাদি হয়ে হানেফসহ অজ্ঞাত ১৫ থেকে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পুলিশ সেই মামলায় ৭ জনকে অভিযুক্ত করে ওই বছরেই সেপ্টেম্বর মাসে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানী শেষে ২০০১ সালের ২০ নভেম্বর আসাম সার্জন, হানিফ, শহিদুল ইসলাম ওরফে জেন, শের আলী, জুর আলী আব্দুল মালেক ও বেল্টু ওরফে তোয়াকে ফাঁসির আদেশ দেয়। আসামি পক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করে। পরে নিহতের পরিবারে আবার শুরু হয় আদালতের বারান্দায় ছুটাছুটি। ২০০৪ সালে উচ্চ আদালত থেকে মামলায় আসামী সার্জন, হানেফ ও বেল্টুকে মৃত্যুদন্ড বহাল রাখে আর আসামী শহিদুল ইসলাম ওরফে জেন, শের আলী, জুর আলী ও আব্দুল মালেককে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করে। তবে মৃত্যুদন্ডের আদেশ প্রাপ্ত সার্জন, হানেফ ও বেল্টুকে স্থানীয় সংসসদ সদস্যর সুপারিশে সাধারণ ক্ষমা করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি। এর মধ্যে হানেফ ২০২৫ সালে প্রতিপক্ষের গুলিতে দুই সহযোগীসহ নিহত হন।

নিহতের স্ত্রী সম্পতি নেছা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামীর হত্যার সার্জনের মৃত্যুদন্ড দিলেও সে এখন জামিনে বের হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিভাবে একজন মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী জামিন পেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে আমি সেটাই বুঝছি না। আর আসামি মালেক কিছুদিন জেল খেটে এলাকায় ফিরেছে। এখন নাকি আবার এলাকায় সংগঠিত হচ্ছে। আমার স্বামীকে মেরে এখন আবার আমার সন্তানকে হত্যা করতেও পারে তারা। আমরা তো সঠিক বিচার পেলাম না।’

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জজ কোর্টের পিপি এসএম মশিয়ুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত পরিতাপের। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করলে আমরা লিগ্যাল এইডের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে।’

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়