শিরোনাম
◈ শান্তিচুক্তি সইয়ের সময়সূচি ঘোষণা ট্রাম্পের, ভিন্ন অবস্থানে ইরান ◈ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত হবে, লবণচাষীরা পাবেন ন্যায্যমূল্য ◈ বাংলাদেশকে স্বনির্ভর ও শিল্পোন্নত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: মির্জা ফখরুল ◈ ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশল: অর্থনীতির জন্য কতটা ইতিবাচক? ◈ ক্রিকেটার নাঈমের শারী‌রিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে চট্টগ্রামে গে‌লেন বিসিবির ফিজিওরা ◈ ব্রাজিলের এক‌টি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ মরক্কোর বিপক্ষে জয় চান না ◈ ইংল্যান্ড দ‌লের বল ও বুটসহ অ‌নেক অনুশীলন সরঞ্জাম চুরি ◈ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে একটি করে গাছ লাগান: প্রধানমন্ত্রী ◈ বিপ্লবের পর বাস্তবতার মুখে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা ◈ জুলাইয়ে সমাহিত হবেন খামেনি, ঘোষণা ইরানের

প্রকাশিত : ১৩ জুন, ২০২৬, ১১:১২ রাত
আপডেট : ১৪ জুন, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত হবে, লবণচাষীরা পাবেন ন্যায্যমূল্য

সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার: বিএনপি'র চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মদ ও সিগারেটের উপর ট্যাক্স বাড়ানোর কারণে নাখোশ হয়েছে বিরোধীদল। লবণ চাষীদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার জন্য কাজ করবে সরকার। এদেশের মালিক জনগণ, বিএনপি জনগণের জন্য কাজ করে, জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করে।

শনিবার রাতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা বিএনপি আয়োজিত চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে গুরুত্ব কথাগুলো বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানুষের জন্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ভোটের কালি শুকানোর আগেই ইশতেহারে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে বিএনপি সরকার।

এবার বাজেট ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়নি। কিন্তু মদ-সিগারেট ও বিলাসী পণ্যের উপর ট্যাক্স বাড়ানোর কারণে চরম ভাবে নাখোশ হয়েছে বিরোধীদল। তারা এ বাজেট মানে না দাবি করে মিছিল সমাবেশ করছে। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় ৩৭টি পণ্যে ট্যাক্স কমানো হলো, সেটা তারা কোথাও বলছে না। এতে কি বুঝা যায়, সাধারণ মানুষ নয়- বিশেষ কিছু শ্রেণির স্বার্থই তাদের কাছে বড়।

এর আগে শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদরের পিএমখালীর শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত 'পাতলী খাল' পুনঃ খনন উদ্বোধন শেষে আয়োজিত পথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুবেদার মেজর আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন জিকুর সঞ্চালনায় পথসভায় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বিরোধী দলের অযৌক্তিক বিরোধিতায় আমরা কান দিচ্ছি না। সাধারণ জনগণের স্বার্থরক্ষা, প্রত্যান্ত অঞ্চলের সকল জমিকে আবাদ যোগ্য করে দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে স্বাবলম্বী হওয়া নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, অর্ধশত বছর আগে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অজপাড়া এ গাঁয়ে পাতলী খাল খনন করে চাষাবাদ বাড়িয়েছেন। মাঝে খালটি নাব্যতা হারানোর পাশাপাশি বেদখল হয়েছে। এখন পুনঃখনন হচ্ছে, আবারো পূর্বের মতো আবাদ সুযোগ আসবে। এটা সরাসরি সাড়ে ৮হাজার কৃষককে লাভবান করবে। এথেকে লাভবান হবে আশপাশের ৪০ হাজারের অধিক মানুষ। এভাবে সারা বাংলাদেশে ৪০ হাজার মিটার খাল খনন হলে চাষাবাদের সহজলভ্যতা বাড়বে। কৃষক লাভবান হলে দেশ লাভবান হবে। দেশ লাভবান হলে স্বনির্ভরতা আসবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপি আমজনতার দল- সাধারণ মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে বিশ্বাসী। দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে কৃষক ও সাধারণ মানুষের ভাগ্যউন্নয়ন তরান্বিত করতে হবে। দরিদ্র কৃষকদের চাষাবাদ ঠিক রাখতে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। দেশের মানুষের প্রতি অনুরোধ সরকারের উপর আস্থা রাখুন।

সভায় সদর আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, কক্সবাজারের দুঃখ বাঁকখালী নদী। এ নদীর বাঁকে বাঁকে ভাঙ্গন দু'কুলের মানুষকে ভোগায়- ভাসিয়ে নেয় ফসল। নদীর দু'কুলে টেকসই বাঁধ নির্মাণে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দাবি জানান তিনি।

এমপি কাজল আরো বলেন, জেলার অনেক মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু ও ভূমিহীন। অনেকের বসবাস পাহাড়ের উপর বা পাদদেশে। তারা সবসময় আতংকে থাকেন, কখন উচ্ছেদ হচ্ছেন। সরকারের কাছে আমার দাবি- তাদের উচ্ছেদের আগে যেন, পুনর্বাসন করা হয় বা তাদের নামে খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়।

এতে আরো বক্তব্য রাখেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, পিএমখালী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি প্রমূখ।  

বেলা ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর পিতা মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিজের হাতে মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি।

বৃষ্টি আর বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও তাকে ঘিরে কক্সবাজারজুড়ে দেখা গেছে উচ্ছ্বাস। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি দেখতে খালপাড়ে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। পথসভায় বক্তব্য শেষ করে পৌনে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা কক্সবাজার থেকেই শুরু করেন তিনি। শনিবার (১৩ জুন) বেলা তিনটার দিকে কক্সবাজারের মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে নিজ হাতে একটি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এসময় তিনি বলেন, বছরে অন্তত পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর ইচ্ছে আছে। আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সন্তান যেন সুন্দর একটা পৃথিবীতে বাস করতে পারে, সেটা মাথায় রেখে আজ থেকে প্রত্যেকেই দয়া করে যেখানে সম্ভব সবাই অন্তত একটি করে বৃক্ষরোপণ করবেন। আমরা যদি এই বৃক্ষরোপন করতে পারি আমি বিশ্বাস করি আগামী প্রজন্ম অন্তত পরিশুদ্ধ শ্বাস নিতে পারবে। একটি দূষণমুক্ত বায়ু দ্বারা তারা শ্বাস নিতে পারবে। আমরা এমন একটি পরিবেশ উপহার দিতে চাই যেখানে বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নেয়া যায়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন। এ সময় বন ও পরিবেশ মন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্যরা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানেও বৃক্ষরোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কক্সবাজার সফরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিমানবন্দরের বাইরে অবস্থান নেওয়া বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা স্লোগানে স্লোগানে স্ব-স্ত্রীক প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

দিনব্যাপী প্রায় ১২ঘণ্টার এ সফরে প্রধানমন্ত্রী ১১টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। তার আগমনকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন স্থানে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, ডুলাহাজারা থেকে তিনি পেকুয়ায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম-এর কবর জিয়ারত এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার পরিবারে ২০ লাখ টাকার পারিবারিক সঞ্চয়পত্র উপহার দেন। বিশ্রামের পর পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনও সম্পন্ন করেন। রাতে চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রীর।

জনসভা শেষে তিনি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকত এলাকা পরিদর্শন শেষে হোটেল লং বীচের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন তিনি। সব কর্মসূচি শেষে রাত ১০টার দিকে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলাশহর এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে দেখা দেয় ব্যাপক উচ্ছ্বাস। এসব আয়োজন এর প্রধানমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এনি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী নীর হেলাল, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুল মিল্লাত, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম,বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী সহ সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী যে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন জিয়াউর রহমান, পাতলী খাল ছিল তারই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ১৯৭৯ সালের নভেম্বরে তিনি নিজে কক্সবাজারে এসে এই খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন। প্রায় অর্ধশতাব্দী পর তারই ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করায় প্রশংসায় ভাসছেন। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়