শিরোনাম
◈ শান্তিচুক্তি সইয়ের সময়সূচি ঘোষণা ট্রাম্পের, ভিন্ন অবস্থানে ইরান ◈ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত হবে, লবণচাষীরা পাবেন ন্যায্যমূল্য ◈ বাংলাদেশকে স্বনির্ভর ও শিল্পোন্নত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: মির্জা ফখরুল ◈ ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশল: অর্থনীতির জন্য কতটা ইতিবাচক? ◈ ক্রিকেটার নাঈমের শারী‌রিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে চট্টগ্রামে গে‌লেন বিসিবির ফিজিওরা ◈ ব্রাজিলের এক‌টি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ মরক্কোর বিপক্ষে জয় চান না ◈ ইংল্যান্ড দ‌লের বল ও বুটসহ অ‌নেক অনুশীলন সরঞ্জাম চুরি ◈ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে একটি করে গাছ লাগান: প্রধানমন্ত্রী ◈ বিপ্লবের পর বাস্তবতার মুখে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা ◈ জুলাইয়ে সমাহিত হবেন খামেনি, ঘোষণা ইরানের

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:৪৬ সকাল
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাধাচূড়া-জারুলে সেজেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

দেশের ব্যস্ততম সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। এই সড়কে এখন বইছে বসন্তের বাতাস। বাস্তবিক অর্থেই ফুলে ফুলে ভরে গেছে এই মহাসড়ক। সড়ক বিভাজকে লাগানো গাছে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রামের শেষ প্রান্ত মোহাম্মদ আলী পর্যন্ত প্রায় ১০৫ কিলোমিটারজুড়ে ফুটেছে রাধাচূড়া। এর বাইরে এই পথের কোথাও দেখা মিলছে কৃষ্ণচূড়া, জারুল ও সোনালু ফুলের।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক—দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ধমনি। প্রতিদিন হাজারো যান চলে এই পথে। কুমিল্লার চান্দিনার কাঠেরপুল এলাকা থেকে শুরু করে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে রাধাচূড়া ফুলের সমারোহ পথচারীদের দৃষ্টি কেড়ে নিচ্ছে। চলন্ত গাড়ির জানালা দিয়ে তাকালেও চোখে পড়ে ফুলে ভরা গাছের সারি। অনেকে গাড়ি থামিয়ে ছবি তুলছেন, আবার কেউ কেউ নীরবে উপভোগ করছেন প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর আয়োজন।

নিয়মিত এই পথে যাতায়াত করা ট্রাকচালক শফিক মিয়া বলেন, আগে এই রাস্তায় ধুলা আর যানজট ছাড়া কিছুই চোখে পড়ত না। এখন ফুলগুলো দেখলে মনটা ভালো হয়ে যায়। দীর্ঘ পথ গাড়ি চালানোর ক্লান্তিও কিছুটা কমে।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান বাসচালক মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, একই দৃশ্য দেখতে দেখতে একঘেয়েমি চলে আসে। কিন্তু এই ফুলগুলো রাস্তায় ভিন্নতা এনে দিয়েছে, যা মনকে সতেজ রাখে।

যাত্রীদের মধ্যেও এ দৃশ্য নিয়ে রয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস। কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী যাত্রী সাদিয়া জাহান বলেন, দেশের সড়কেও এমন সুন্দর দৃশ্য দেখা যাবে, তা ভাবিনি। বিদেশের মতোই মনে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন এই পথ দিয়ে হাঁটি। এখন মনে হয় যেন ফুলের বাগানের মধ্য দিয়ে চলছি। অনেকে শুধু এই দৃশ্য দেখতে এখানে আসছেন।

কলেজশিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার জানান, বন্ধুদের নিয়ে প্রায়ই এখানে ছবি তুলতে আসেন তাঁরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছবি শেয়ার করলে অনেকে জায়গাটি সম্পর্কে জানতে চান।

লাভ ফর বাংলাদেশ ট্যুরিজম ক্লাবের সভাপতি মীর মফিজুল ইসলামের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সড়কের পাশে গাছ লাগানো হলে তা বায়ুদূষণ কমায়, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক হয়। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যদি পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এমন সবুজায়ন ও ফুলের সমারোহ ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে এটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন সড়কে পরিণত হতে পারে।

সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের কুমিল্লার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আদনান ইবনে হাসান জানান, মহাসড়ককে দৃষ্টিনন্দন করতে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন স্থানে ঋতুভিত্তিক ফুলগাছ রোপণ করা হচ্ছে। যাতে সারা বছরই কোনো না কোনো ফুল ফুটে থাকে। তিনি বলেন, এ কার্যক্রম ধীরে ধীরে পুরো মহাসড়কে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে একদিকে যেমন সড়কের সৌন্দর্য বাড়বে, অন্যদিকে চালক ও যাত্রীদের মানসিক চাপও কমবে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়