শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৮ মে, ২০২৬, ০৬:৫০ বিকাল
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বৃষ্টিভেজা ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে ১৯৯তম জামাত 

ফারুকুজ্জামান, কিশোরগঞ্জ : টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি আর আকাশজুড়ে ঘন কালো মেঘে ঢেকে ছিল কিশোরগঞ্জের আকাশ। ঈদের দিন সকালে আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকলেও জামাত শুরুর সাথে সাথেই শুরু হয় ভারী বর্ষণ। তবুও সেই বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহে। ভেজা ও কাদা মাখা মাঠেই অনুষ্ঠিত হয় ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাত।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোর থেকেই দলে দলে মুসল্লিরা বৃষ্টির মধ্যেই ঈদগাহে আসতে শুরু করেন। রেইনকোট, ছাতা কিংবা প্লাস্টিকের আবরণ মাথায় দিয়ে তারা জামাতে অংশ নেন তারা। মাঠ ভেজা থাকায় অনেক জায়গায় কাদা জমে যায়, তবুও মুসল্লিদের আগমন থামেনি। জায়নামাজ ও মোবাইল ফোন ছাড়া অন্য কিছু মাঠে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার বিষয়টি মাথায় রেখে এবারও নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। বৃষ্টিভেজা মাঠ ও আশপাশে মোতায়েন ছিল দুই প্লাটুন বিজিবি, শত শত পুলিশ, র‍্যাব, আর্মড পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। বৃষ্টির মধ্যেই কাজ করে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট পুরো মাঠ পরীক্ষা করে নিশ্চিত করে নিরাপত্তা। মাঠজুড়ে ছিল সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার।ভেজা ও কাদামাখা মাঠেই অনুষ্ঠিত হয় ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাত। 


বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধায় দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করে। একটি ভৈরব থেকে এবং অন্যটি ময়মনসিংহ থেকে। ভেজা সড়ক ও বৃষ্টির মাঝেও হাজারো মানুষ শোলাকিয়া অভিমুখে রওনা হন।কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মোজহারুল ইসলামসহ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা জামাতে অংশ নেন। 


ময়মনসিংহের নান্দাইলের মো. আলাউদ্দিন ১২ বছর ধরে শোলাকিয়ায় নামাজ পড়েন। তাই এবার বৃষ্টিতে ভিজেই সেখানে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি থাকলেও শোলাকিয়ার নামাজ মিস করি না। এই অনুভূতি অন্যরকম।

কুলিয়ারচরের আলী আকবর সাইকেলে ভিজতে ভিজতে এসে বলেন, ‘বৃষ্টি হোক বা রোদ-এখানে নামাজ পড়ার শান্তিটাই আলাদা ।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রেখেছিলাম। মুসল্লিদের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে জামাত সম্পন্ন হয়েছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ‘বৃষ্টি ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অটুট। এটি আমাদের জন্য সফল আয়োজন।

কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব প্রান্তে নর সুন্দা নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত শোলাকিয়া ঈ দগাহ ১৭৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। জনশ্রুতি অনুযায়ী, ১৮২৮ সালে এখানে সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন, সেখান থেকেই এর নাম ‘শোলাকিয়া’।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়