শিরোনাম
◈ অনিশ্চয়তায় প‌ড়ে‌ছে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভর্তি রোগীরা, লাইসেন্স বাতিল ঘিরে বিতর্ক ◈ সীমান্তে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণে পুনরায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ-ভারত ◈ ‘সুপার’ এল নিনোর আনুষ্ঠানিক আগমন, পরিস্থিতি দ্রুতই ভয়ংকর হতে পারে: বিজ্ঞানীরা ◈ কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে না, আমাদের উন্নয়নে চীন সহযোগিতা করছে: মির্জা ফখরুল ◈ বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়েছে: অর্থমন্ত্রী ◈ করের ক্ষেত্রে যে আটটি পরিবর্তন আসছে ◈ "ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা ট্রাম্পের, সামরিক অভিযান থেকে সরে এসে বললেন, চুক্তি ‘প্রায় চূড়ান্ত’, ইউরোপে সই হবে" ◈ ভারত ও বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করলে বিশ্বশক্তিতে পরিণত হতে পারে: দিনেশ ত্রিবেদী ◈ ধৃষ্টতা সকল সীমা ছাড়িয়েছ’; অভিনেত্রী শাওনকে নিয়ে তাজুল ইসলামের ক্ষোভ ◈ উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন, ভালো চাকরির ফাঁদে বিদেশে গিয়ে সাইবার স্ক্যামে বাধ্য, দেশে ফিরলেন ৩৭ বাংলাদেশি

প্রকাশিত : ১৩ মার্চ, ২০২৬, ০৯:২০ সকাল
আপডেট : ১১ জুন, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

লন্ডন–ঢাকা কার্গো রুট হারিয়ে বছরে শত কোটি টাকার ক্ষতি বিমানের

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের লন্ডন-ঢাকা রুটের লাভজনক কার্গো ব্যবসা এখন পুরোপুরি বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর দখলে চলে গেছে।

অভিযোগ র‌য়ে‌ছে, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচার, অসাধুচক্রের ষড়যন্ত্র এবং সাবেক সরকারের এক প্রভাবশালী নেতার সরাসরি হস্তক্ষেপে যুক্তরা‌জ্যের বাংলা‌দেশি মা‌লিকানাধীন বৃহত্তম ও প্রাচীন কার্গো এজেন্টের চুক্তি বাতিল করা হয়। এতে করে বছরে শত শত কোটি টাকা লোকসান গুনছে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি। বিমানের অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও জরুরি সভার কার্যবিবরণী বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বিমা‌নের বেশকিছু অভ‌্যন্তরীণ নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৯ সাল থেকে জেএমজি কার্গো প্রতিষ্ঠান বিমানের সঙ্গে সফলভাবে ব্যবসা করে আসছিল। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি লন্ডন-ঢাকা রুটে বিমানের কার্গো পরিবহনে বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু ২০২০ সালে কোনও যৌক্তিক কারণ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটির কার্গো সেলস এজেন্ট (সিএসএ) চুক্তি বাতিল করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিমানের লন্ডন অফিসের তৎকালীন কান্ট্রি ম্যানেজার হারুন খানসহ একটি প্রভাবশালী প‌ক্ষের প্ররোচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চুক্তি বাতিলের আগে জেএমজি কার্গো প্রতি ফ্লাইটে গড়ে ৮ টন কার্গো দিলেও, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তা হঠাৎ কমিয়ে ৩ টনে নামিয়ে আনা হয়। এর পরপরই চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়, যা এই রুটে বিমানের কার্গো ব্যবসায় ধস নামায়।

২০২৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিমানের বিপণন বিভাগ থেকে দেওয়া এক প্রতিবেদন ও ২৭ সেপ্টেম্বরের জরুরি সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, জেএমজি কার্গোর সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পর থেকেই বিমানের আয় তলানিতে ঠেকেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে লন্ডন-ঢাকা রুটে বিমানের কার্গো আয় ছিল ৪৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে জেএমজির চুক্তি বাতিলের পর ২০২০-২১ অর্থবছরে সেই আয় নেমে আসে মাত্র ৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকায়। বিমানের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিউল আজিম এক সভায় এই বিপুল রাজস্ব ক্ষতির জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দায়ী কর্মকর্তাদের তিরস্কার করে জেএমজি কার্গোকে দ্রুত পুনর্বহালের নির্দেশ দেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, জেএমজির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন তৎকালীন কান্ট্রি ম্যানেজার হারুন খান এবং ফাইন্যান্স কন্ট্রোলার আবু সাঈদ মো. মঞ্জুর ইমাম। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তারা লন্ডন গিয়ে কোনও তদন্ত না করেই একতরফা ও মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন। বর্তমান সরকারের আমলেও এই সিন্ডিকেটের কিছু সদস্য এখন সক্রিয় থেকে পুনর্বহাল প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিমানের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে এই ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বিমানের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

ভুক্তভোগীর বক্তব্য

জেএমজি কার্গোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনির আহমেদ বলেন, ‘‘আমরা প্রবাসীদের সেবা দিচ্ছিলাম। আমাদের অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়ার ফলে প্রবাসীরা এখন বিদেশি এয়ারলাইন্স বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। আমরা গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন দফতরে আবেদন করেও বিচার পাইনি। এখন আমরা বর্তমান সরকারের কাছে সুবিচার প্রত্যাশা করছি।’’

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য বিমানের লন্ডনের বর্তমান কান্ট্রি ম্যানেজার রিয়াদ সুলাইমানের সঙ্গে ইমেইলে যোগাযোগ করা হলেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার কাছ থেকে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়