শিরোনাম
◈ অর্থের উৎস নিয়ে বিতর্ক, স্থগিত ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রামমূর্তি নির্মাণ ◈ তৃতীয় ভাষা শিখলে মিলবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ ◈ নতুন বাজেটে কোন ব্র্যান্ডের সিগারেটের দাম কত? ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা ◈ দিল্লির শীর্ষ বৈঠকেও ‘পুশ-ইন’ সংকটের সমাধান মিলল না ◈ ভাইকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সেই বৃদ্ধ ষষ্ঠী বর্মন, ভারতে গেলেন যেভাবে ◈ মাথায় ব‌লের আঘাত, হাসপাতালে মে‌হে‌দি মিরাজ ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন ◈ বাজেটের আকারে এগোচ্ছে বাংলাদেশ, ছাড়িয়ে গেছে কয়েকটি ধনী দেশকে ◈ অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার সিরিজে হারাল বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ১০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:১৭ সকাল
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মিত্র হারিয়ে কোণঠাসা খামেনি: ভেনেজুয়েলা থেকে তেহরান—ইরানের শাসন কি শেষ অধ্যায়ে?

তেহরানের আকাশে এখন কেবল বারুদের গন্ধ নয় বরং অজানা আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত কয়েক বছরে একের পর এক বন্ধু হারিয়ে এখন প্রায় নিঃসঙ্গ। এক বছর আগে সিরিয়ার বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া থেকে রক্ষা করতে না পারার ব্যর্থতা দিয়েই এই পতনের শুরু বলে দাবি করা হয়েছে দ্য আটলান্টিকের এক নিবন্ধে।

নিবন্ধে বলা হয়েছে, এরপর ইসরায়েলি হামলায় একে একে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে ইরানের গর্ব ‘অক্ষশক্তি’ বা রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট। লেবাননের হিজবুল্লাহকে কার্যত নিরস্ত্রীকরণের পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু খামেনির জন্য সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় আঘাতটি এসেছে সুদূর ভেনেজুয়েলা থেকে। দীর্ঘদিনের মিত্র নিকোলাস মাদুরো যখন সিক্সথ অ্যাভিনিউয়ের কোনো আদালতকক্ষে বন্দি হিসেবে হাজির হন, তখন তেহরানের ক্ষমতার অলিন্দে কম্পন সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। 

ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও এখন আগ্নেয়গিরির মুখে দাঁড়িয়ে। একদিকে চরম অর্থনৈতিক সংকট, অন্যদিকে রাস্তায় সাধারণ মানুষের তীব্র বিক্ষোভ; সবমিলিয়ে খামেনির শাসনের ভিত নড়বড়ে বলে দাবি করছে পশ্চিমারা। যদিও তেহরান বলছে, শত্রুর চাপে তারা মাথা নত করবে না। সবধরনের হুমকি মোকাবেলায় ইরান পুরোদস্তুর প্রস্তুত।

গত বছর ইসরায়েল ও আমেরিকার সাথে ইরানের ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ইরান নিজেদের জয়ী দাবি করেছিলো, তবে পশ্চিমা অক্ষের দাবি সম্পূর্ণ তার বিপরীত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলার অপারেশনকে সফল দাবি করে গত বছরের ইরান হামলার সাথে তুলনা করে যে হুঙ্কার দিয়েছে, তাতে ইরানের কপালে চিন্তার ভাঁজ না পড়ে উপায় নেই বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্বরাজনীতির মোড়ল হিসেবে পরিচিত রাশিয়া ও চীন এই পুরো সংকটে কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে। এই নির্লিপ্ততা ইরানকে এক রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ইরানের কট্টরপন্থীরা এখন মনে করছেন, টিকে থাকতে হলে কেবল সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির ওপর নির্ভর করতে হবে। 

অন্যদিকে, ইরানের পশ্চিমপন্থি কথিত উদারপন্থীরা আওয়াজ তুলছেন ভিন্ন এক দাবিতে। তারা বলছেন, সরকারের বৈধতা আসতে হবে জনগণের কাছ থেকে। তাদের দাবি, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসনের ঘটনা ইরানের সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খামেনিবিরোধী ইরানিদের হাস্যরসেও ফুটে উঠছে ক্ষোভ। অনেকেই বলছেন, জনগণের ভোটে ক্ষমতা না ছাড়লে শেষ পর্যন্ত বিদেশি শক্তির হাতেই এই শাসনের অবসান ঘটবে।

তবে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের এই আলোচনায় এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম নির্বাসিত প্রিন্স রেজা পাহলভি। তিনি নিজেকে ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। রাজপথের বিক্ষোভে তার সমর্থনে স্লোগানও শোনা যাচ্ছে। যদিও পাহলভি সরাসরি সামরিক হামলার পক্ষপাতী নন, তবে তার সমর্থক এবং ঘনিষ্ঠজনরা মার্কিন ও ইসরায়েলি তৎপরতাকে সমর্থন দিয়ে আসছেন। 

কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, আমেরিকা কি আসলেই পাহলভিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়? ভেনেজুয়েলার দৃষ্টান্ত খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। সেখানে ক্ষমতা বিরোধী দলের কাছে নয় বরং মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। এমনকি ভয়েস অব আমেরিকার ফার্সি বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে ইরানের বর্তমান বিরোধী দলগুলোর মধ্যে কোনো ঐক্য নেই। ফলে বিকল্প কোনো শক্তির খোঁজ সম্ভবত ইরানের ভেতরেই চলছে।

ইরানের বর্তমান প্রশাসন দাবি করছে, এই বিক্ষোভের পরিপূর্ণ উস্কানি আসছে বিদেশ থেকে। তেহরান এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গভীর ষড়যন্ত্রের ছায়া দেখছে। বিপরীতে আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করা ট্রাম্প খামেনির জন্য বড় হুমকি বলেই মানছেন আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়