শিরোনাম
◈ কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর হবে নতুন আন্তর্জাতিক গেটওয়ে ◈ অর্থের উৎস নিয়ে বিতর্ক, স্থগিত ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রামমূর্তি নির্মাণ ◈ তৃতীয় ভাষা শিখলে মিলবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ ◈ নতুন বাজেটে কোন ব্র্যান্ডের সিগারেটের দাম কত? ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা ◈ দিল্লির শীর্ষ বৈঠকেও ‘পুশ-ইন’ সংকটের সমাধান মিলল না ◈ ভাইকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সেই বৃদ্ধ ষষ্ঠী বর্মন, ভারতে গেলেন যেভাবে ◈ মাথায় ব‌লের আঘাত, হাসপাতালে মে‌হে‌দি মিরাজ ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন ◈ বাজেটের আকারে এগোচ্ছে বাংলাদেশ, ছাড়িয়ে গেছে কয়েকটি ধনী দেশকে

প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:১৩ রাত
আপডেট : ০১ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বুঝে উঠার আগেই ‘নগ্নতার শিকার’, যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন কিশোরী 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তৈরি ভুয়া নগ্ন ছবি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় জীবনের শুরুতে ভোগান্তির মুখে পড়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কিশোরী। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। স্কুলের তারই এক সহপাঠী কৃত্রিমভাবে ছবি তৈরি করে তার নামে অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়। ভয়াবহ এই পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে বা কোথায় সহায়তা পাওয়া যাবে-সে বিষয়ে সে সময় পরিষ্কার কোনো দিকনির্দেশনা বা ধারনা ছিল না তার।

এখন ১৬ বছর বয়সে এসে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে অন্য কোনো শিক্ষার্থী যেন একই পরিস্থিতিতে একাকী হয়ে না পড়ে-সে লক্ষ্যেই উদ্যোগ নিয়েছেন এলিস্টন বেরি। তিনি অনলাইনভিত্তিক একটি প্রশিক্ষণ কোর্স তৈরিতে যুক্ত হন, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা কৃত্রিমভাবে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি ও অনলাইন হয়রানি সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন। কোর্সটি তৈরি করা হয়েছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যাডাপটিভ সিকিউরিটি এবং প্যাথস কলসাল্টিং গ্রুপ-এর সহযোগিতায়। খবর সিএনএনের।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এআইভিত্তিক এ সম্পর্কিত বিভিন্ন টুল সহজলভ্য হয়ে পড়ায় এ ধরনের ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে। গবেষণা সংস্থা থর্ন–এর তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আটজন কিশোরের একজন এমন কাউকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন, যিনি এই ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে ‘টেক ইট ডাউন অ্যাক্ট’ নামে একটি আইন কার্যকর হয়েছে, যেখানে কারও অনুমতি ছাড়া তৈরি বিভ্রান্তিকর ব্যক্তিগত ছবি ছড়ালে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই আইন পাসের পক্ষে প্রচারে এলিস্টন বেরি নিজেও যুক্ত ছিলেন।

প্রায় ১৭ মিনিটের এই অনলাইন কোর্সে কৃত্রিমভাবে তৈরি ছবি শনাক্ত করার উপায়, অনলাইন হয়রানি বোঝা, এবং সমস্যার মুখে পড়লে করণীয় বিষয়ে ধারণা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সহায়তামূলক সংস্থা রেইনের-এর তথ্য, আইনি সহায়তার পথ এবং কীভাবে দ্রুত অনলাইন কনটেন্ট অপসারণের আবেদন করা যায়-সেসব বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে এলিস্টন বেরি জানান, একসময় তার সেই সব ছবি সরাতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল। নতুন আইনের ফলে এখন এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবস্থা নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

অ্যাডাপটিভ সিকিউরিটি–এর প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান লং বলেন, এ ধরনের কাজকে কখনোই তুচ্ছ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এগুলো মানুষের ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই সচেতনতা তৈরি করা যেমন জরুরি, তেমনি দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাও প্রয়োজন।

এই প্রশিক্ষণ কোর্সটি বিনা মূল্যে স্কুল ও অভিভাবকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এলিস্টন বেরির ভাষায়, ‘এই বিষয়ে কথা বলা, শেখা এবং অন্যদের জানানো-এটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়