শিরোনাম
◈ আইন ভেঙে ঢাকার ভালো মাঠ পার্ক অভিজাত সোসাইটিকে দিচ্ছে রাজউক ও সিটি করপোরেশন ◈ ১৩ হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থক  স্টে‌ডিয়া‌মে প্রবে‌শে নি‌ষিদ্ধ ◈ শেষ মুহূর্তের গোলে ইকুয়েডরকে হারা‌লো আইভরিকোস্ট ◈ সরকার তিন মাসেও কেন হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলো না? ◈ কাউন্টি ক্রিকে‌টে আরও ভয়ংকর বাংলা‌দে‌শের হাসান, রোমাঞ্চকর জয় কেন্টের ◈ যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তিচুক্তির ৯ দফা: যা থাকছে সমঝোতায় ◈ ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যেত: জামায়াত আমির ◈ সেবায় অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগে ২১ ওমরাহ কোম্পানির লাইসেন্স স্থগিত করল সৌদি ◈ বেরোবির সাবেক ভিসি কলিমুল্লাহকে জামিন দিল হাইকোর্ট ◈ চীনা বিনিয়োগ টানতে বিশেষ পরিকল্পনা, জানালেন বিডা চেয়ারম্যান

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৪৩ সকাল
আপডেট : ১৩ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হার্ভার্ডকে পিছনে ফেলে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে চীনা বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চশিক্ষায় মার্কিন আধিপত্যে ধস!

বিশ্বের উচ্চশিক্ষার মানচিত্রে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তাতে এখন বড় ধরনের ধস নামার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের লিডেন ইউনিভার্সিটির সর্বশেষ ‘লিডেন র‍্যাঙ্কিং’ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গবেষণাপত্র প্রকাশের সংখ্যা ও গুণগত মানে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এসেছে চীনের ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের। 

২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র বা জার্নাল নিবন্ধের ওপর ভিত্তি করে তৈরি বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিং সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। তখন শীর্ষ ১০-এর মধ্যে সাতটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি। তবে  নতুন প্রকাশিত প্রতিবেদনের শীর্ষ ১০-এর মধ্যে আরও সাতটি চীনা ইউনিভার্সিটি রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পিছিয়ে পড়ার পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর নীতিকে। ক্ষমতায় আসার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ফেডারেল গবেষণা তহবিলে ব্যাপক কাটছাঁট করেছেন। এর পাশাপাশি অভিবাসনবিরোধী কড়াকড়ির ফলে আন্তর্জাতিক মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ১৯ শতাংশ কমে গেছে। 

হার্ভার্ডের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখন তাদের অসমাপ্ত গবেষণার তালিকা প্রকাশ করে সতর্ক করছে যে, অর্থায়নের অভাবে পরবর্তী প্রজন্মের বিজ্ঞানীরা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়বেন। যদিও হোয়াইট হাউস একে ‘অপচয় রোধ’ বলে দাবি করছে, তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।

যুক্তরাষ্ট্র যখন পিছিয়ে যাচ্ছে, চীন তখন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শত শত কোটি ডলার ঢালছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং স্পষ্ট করে বলেছেন, একটি দেশের বৈশ্বিক শক্তি নির্ভর করে তার বৈজ্ঞানিক আধিপত্যের ওপর। বিদেশি গবেষক টানতে তারা বিশেষ ভিসা চালু করেছে এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তি থেকে শুরু করে সরাসরি বাতাস থেকে খাদ্য তৈরির মতো যুগান্তকারী গবেষণায় অর্থায়ন করছে। ২০ বছর আগে ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ ২৫-এ কোনোমতে জায়গা পেলেও আজ তারা বিশ্বসেরার মুকুট পরেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিং কেবল একটি তালিকা নয়, এটি মূলত বিশ্বের সেরা মেধাবীদের আকৃষ্ট করার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ অ্যালান রুবি মনে করেন, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে পড়ে, তবে নামী গবেষক বা মেধাবী শিক্ষার্থীরা সেখানে যেতে চাইবেন না। বর্তমান প্রবণতা বলছে, শুধু হার্ভার্ড নয়, স্ট্যানফোর্ড, ডুক বা নটরডেমের মতো নামী আমেরিকান প্রতিষ্ঠানগুলোও গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে গেছে।

টাইমস হায়ার এডুকেশনের গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার ফিল ব্যাটি সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে খারাপ হয়ে গেছে তা নয়, বরং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অন্যরা অনেক বেশি গতিতে উন্নতি করছে। গবেষণার এই প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা না গেলেও আগামী চার-পাঁচ বছর পর এর ফলাফল হবে সুদূরপ্রসারী। ১৯৩০-এর দশকে জার্মানি তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুরুত্ব কমিয়ে যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রও কি সেই একই পথে হাঁটছে—এখন সেই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

সূত্র: আরটিভি 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়