শিরোনাম
◈ গ্যাস-তেল অনুসন্ধানে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে সরকার, ৬৯টি কূপ খনন করবে বাপেক্স ◈ অনিশ্চয়তায় প‌ড়ে‌ছে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভর্তি রোগীরা, লাইসেন্স বাতিল ঘিরে বিতর্ক ◈ সীমান্তে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণে পুনরায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ-ভারত ◈ ‘সুপার’ এল নিনোর আনুষ্ঠানিক আগমন, পরিস্থিতি দ্রুতই ভয়ংকর হতে পারে: বিজ্ঞানীরা ◈ কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে না, আমাদের উন্নয়নে চীন সহযোগিতা করছে: মির্জা ফখরুল ◈ বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়েছে: অর্থমন্ত্রী ◈ করের ক্ষেত্রে যে আটটি পরিবর্তন আসছে ◈ "ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা ট্রাম্পের, সামরিক অভিযান থেকে সরে এসে বললেন, চুক্তি ‘প্রায় চূড়ান্ত’, ইউরোপে সই হবে" ◈ ভারত ও বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করলে বিশ্বশক্তিতে পরিণত হতে পারে: দিনেশ ত্রিবেদী ◈ ধৃষ্টতা সকল সীমা ছাড়িয়েছ’; অভিনেত্রী শাওনকে নিয়ে তাজুল ইসলামের ক্ষোভ

প্রকাশিত : ০৪ মে, ২০২৬, ০৬:১৪ বিকাল
আপডেট : ১২ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পালাউয়ের পতাকা কেন বাংলাদেশের মতো?

প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত এক ছোট্ট ও সুন্দর দেশ ‘পালাউ’। দেশটির নাম অনেকের কাছে অপরিচিত মনে হলেও, এর জাতীয় পতাকা দেখলে যে কোনো বাংলাদেশির চোখ আটকে যেতে বাধ্য। সবুজের জায়গায় নীল আর লালের জায়গায় হলুদ বসিয়ে দিলে যেমন দেখাবে, পালাউয়ের পতাকা ঠিক তেমনই। তবে এই মিল কি কেবলই কাকতালীয়, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো গল্প?

একই ডিজাইন, ভিন্ন অর্থ

বাংলাদেশের পতাকার নকশা তৈরি হয়েছিল ১৯৭১ সালে, আর পালাউ তাদের বর্তমান পতাকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে ১৯৮১ সালের ১ জানুয়ারি। অর্থাৎ নকশার দিক থেকে পালাউ আমাদের অনেক পরের। তবে ডিজাইনে মিল থাকলেও দুটি পতাকার রঙের অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন।

যেভাবে এলো এই নকশা

১৯৮০ সালে যখন পালাউ স্বায়ত্তশাসনের দিকে এগোচ্ছিল, তখন একটি জাতীয় পতাকা নকশা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। হাজারো আবেদনের মধ্য থেকে জন ব্লাউ স্কেবং (John Blau Skebong) নামক এক ব্যক্তির নকশাটি বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হয়। স্কেবং চেয়েছিলেন এমন একটি পতাকা তৈরি করতে, যা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অন্যান্য দেশ থেকে আলাদা হবে এবং পালাউয়ের স্বকীয়তা ফুটিয়ে তুলবে।

নীল সাগর ও হলুদ চাঁদ: রঙের মহিমা

পালাউয়ের পতাকার প্রতিটি রঙের গভীর অর্থ রয়েছে:

নীল পটভূমি: এই গাঢ় নীল রং প্রশান্ত মহাসাগরকে নির্দেশ করে। এই বিশাল সমুদ্রই পালাউয়ের জীবন, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির প্রধান উৎস। পাশাপাশি এটি শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতীক।

হলুদ বৃত্ত (সূর্য নয়, চাঁদ): বাংলাদেশের পতাকায় লাল বৃত্তটি উদীয়মান সূর্যের প্রতীক হলেও, পালাউয়ের হলুদ বৃত্তটি আসলে পূর্ণিমার চাঁদ।

কেন সূর্য নয়, চাঁদ?

পালাউয়ের কৃষি ও জীবনযাত্রার ছন্দ নিয়ন্ত্রিত হয় চাঁদের দশার ওপর ভিত্তি করে। তাদের পূর্বপুরুষরা বিশ্বাস করতেন, পূর্ণিমার চাঁদ হলো নতুন শুরুর প্রতীক। মাছ ধরা থেকে শুরু করে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান—সবকিছুই চাঁদের হিসেব মেনে সম্পন্ন করা হয়। এই ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতেই স্কেবং সূর্যের বদলে চাঁদকে বেছে নেন।

জাপানের পতাকার সাথে তুলনা

অনেকে মনে করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের দখলে থাকায় পালাউ তাদের পতাকার (হিনোমারু) অনুকরণে এটি তৈরি করেছে। তবে ডিজাইনার স্কেবং এই ধারণাটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, জাপানের পতাকায় লাল বৃত্তটি সূর্যকে বোঝায়, আর পালাউয়ের হলুদ বৃত্তটি চাঁদকে বোঝায়—যার অর্থ ও দর্শন সম্পূর্ণ আলাদা।

অনিশ্চয়তা কাটিয়ে স্বকীয়তার প্রতীক

দীর্ঘ সময় স্প্যানিশ, জার্মান, জাপানি এবং মার্কিন শাসনের অধীনে থাকার পর ১৯৮১ সালে যখন পালাউ নিজস্ব প্রজাতন্ত্র (Republic of Palau) গঠন করে, তখন থেকেই এই পতাকাটি তাদের স্বাধীনতার এক গর্বিত প্রতীক হয়ে ওঠে। আজ বৈশ্বিক মঞ্চে যখন নীল-হলুদ রঙের এই পতাকাটি ওড়ে, তখন তা প্রশান্ত মহাসাগরের এক আত্মপ্রত্যয়ী জাতির পরিচয় বহন করে।

সূত্র: যুগান্তর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়